Showing posts with label China. Show all posts
Showing posts with label China. Show all posts

Tuesday, September 29, 2020

6G is coming - কি কি থাকবে 6G তে

প্রযুক্তি জগতে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে সিক্সজি (6G) প্রযুক্তি। না, সিক্সজি এখনো আসেনি, গুটিকয়েক কোম্পানি ফাইভজি (5G) ডেপ্লয়মেন্টের ব্যাপারে প্রাথমিক বা শেষ পর্যায়ে আছে মাত্র। তাহলে সিক্সজি এর কথা বলা হচ্ছে কেন? কারণ বিশ্বের বড় দেশগুলো ইতোমধ্যেই সিক্সজি কাজ শুরু করে দিয়েছে। সিক্সজি ডেপ্লয়মেন্টের সময়সীমাও নির্ধারণ করে ফেলেছে কিছু কোম্পানি। এসব নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই লেখায়।

Source: Venturebeat


Is It coming soon
বিভিন্ন দেশের মোবাইল অপারেটররা এখনো ফাইভজি ডেপ্লয়মেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। বাংলাদেশে মাত্র কিছুদিন আগে ফোরজি এলো। সত্যি কথা বলতে, সিক্সজি প্রযুক্তি এখনো গবেষণা পর্যায়ে আছে। Ericsson, Huawei, NTT Docomo- সহ আরো কিছু কোম্পানির মতে এই প্রযুক্তি আসতে এখনো কম করে হলেও ১০ বছর সময় লাগবে।  কিন্তু তারপরও বিশ্বের বড় বড় মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারাররা ফাইভজি ডেপ্লয়মেন্টের আগেই সিক্সজি এর গ্রাউন্ডওয়ার্ক করে রাখতে চাচ্ছে। এই বিষয়ে স্যামসাং একটি গবেষণাপত্র বা White Paper পাবলিশ করেছে। যেখানে তারা বলেছে, ২০২৮ সালের মধ্যে সিক্সজি ডেপ্লয়মেন্ট সম্ভব।
Timeline of 6G deployment Source: Samsung 6G White Paper

 
How fast will 6G be
যেকোন নতুন প্রযুক্তি আসলে সবার প্রথমে যে প্রশ্নটা আসে, কত দ্রুততর হবে এটি। সিক্সজি নিয়ে গবেষণা এখন যে পর্যায়ে রয়েছে, তা থেকে এটি কত দ্রুততর হবে তা বলা কিছুটা মুশকিল। কিন্তু International Telecommunication Union (ITU) কিছুটা আভাস দিয়েছে এই ব্যাপারে। তারা বলছে সেকেন্ডে ১ টেরাবাইট বা ৮,০০০ গিগাবিট পর্যন্ত স্পিড পাওয়া সম্ভব সিক্সজিতে; ফাইভজি-এর ডেটা স্পিডের (প্রতি সেকেন্ডে ২০ গিগাবিট) তুলনায় যেটি ৪০০ গুণ বেশি। অন্যভাবে যদি বলি, ফাইভজি প্রযুক্তি দিয়ে যদি আপনি নেটফ্লিক্স থেকে কয়েক সেকেন্ডে একটি মুভি ডাউনলোড করতে পারেন, তাহলে সিক্সজি দিয়ে আপনি এক সেকেন্ডে ১৪২ ঘন্টার ভিডিও কন্টেন্ট ডাউনলোড করতে পারবেন।

এছাড়াও আমেরিকার Federal Communications Commission (FCC) দ্বারা সিক্সজির জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক করা হয়েছে ৯৫ গিগাহার্টজ এবং ৩ টেরাহার্টজ যা কিনা এখনকার ফোরজি সেলফোনের ফ্রিকোয়েন্সির (৭০০ মেগাহার্টজ ও ২.৫ গিগাহার্টজ)  ১৩৫ গুণ এবং ফাইভজি সেলফোনের ফ্রিকোয়েন্সির (২৮ গিগাহার্টজ ও ৩৯ গিগাহার্টজ ) ৩/৪ গুণ। 


Offers from 6G

IoT with Cyberspace: মোবাইল নেটওয়ার্ক পোর্টেবিলিটির (Mobile Number Portability) কল্যাণে ইতোমধ্যেই একক অপারেটরের উপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও। সিক্সজিতে এই নির্ভরতা আরো কমবে। ডিসেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়েও সব ডিভাইসে কানেক্টেড থাকার সুবিধাটা সবচেয়ে ভাল পাওয়া যাবে সিক্সজির মাধ্যমে। 
 
দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং ডিভাইসের সহজলভ্যতার জন্য বিশ্বে কানেক্টেড ডিভাইসের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। স্যামসাং তাদের 6G White Paper-এ উল্লেখ করেছে যে, ২০৩০ সাল বিশ্বে সর্বমোট কানেক্টেড ডিভাইসের সংখ্যা হবে ৫০০ বিলিয়ন যা তখনকার অনুমিত জনসংখ্যার ৫৯ গুণ। সুতরাং আমরা বলতে পারি, ঐ সময় সিক্সজির প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে মেশিনই ব্যবহার করবে বেশি। এই বিপুল সংখ্যক ডিভাইস কন্ট্রোল করার প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান আর তা হল Internet of Things বা IoT। সিক্সজিতে IoT এর সাথে সাই-ফাই (Sci-fi) প্রযুক্তি মিলিয়ে এমন cyberspace ক্রিয়েট করা সম্ভব, যেখানে মানুষের চিন্তাভাবনাও (Human thought) প্রসেস করা যাবে। আর এটি সম্ভব হবে যদি সিগন্যালের Air Latency বা Latency কম থাকে।  Latency মানে হল আমাদের ডিভাইস থেকে নিকটবর্তী টাওয়ারে যেতে কোন সিগনালের যে সময় লাগে। এই Latency ফোরজি এবং কম গতির ফাইভজি সিগনালের ক্ষেত্রে ১ মিলিসেকেন্ড বা ১০০০ মাইক্রোসেকেন্ড পর্যন্ত হয়; সিক্সজির ক্ষেত্রে সেটা হতে পারে ১০০ মাইক্রোসেকেন্ডেরও কম।

Mobile Holograms: হাই-রেজুলেশন ক্যামেরা ও ডিভাইস ডিসপ্লের সাথে সিক্সজি এর আলট্রা-হাইস্পিড নেটওয়ার্ক সুবিধা যোগ করে মোবাইল বা ট্যাবলেটের ডিসপ্লের সমান হলোগ্রাম (Hologram) এবং মানবাকৃতির হলোগ্রাম বানানো সম্ভব। এই প্রযুক্তির পরের ধাপ হল ডিজিটাল টুইনস বা রেপ্লিকা (Digital Twins/Replica) তৈরি করা। হলোগ্রাম বা রেপ্লিকা বানানোর জন্য ন্যুনতম ৫০০ গিগাবিট পার সেকেন্ড গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা প্রয়োজন যা ফোরজি বা ফাইভজি কোনটা দিয়েই সম্ভব না। এর সাথে প্রয়োজন রিয়েল টাইম  ডেটা প্রসেসিং যেটা সিক্সজি দিয়ে সবচেয়ে ভালভাবে করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষ, বস্তু এমনকি কোন স্থানেরও রেপ্লিকা বানানো সম্ভব যার মাধ্যমে ঘরে বসেই কারো সাথে যোগাযোগ করা, কোন জায়গা বা স্থাপনা পরিদর্শন, ইত্যাদি সম্ভব।


Hologram Source: nypost

Extended Reality (XR): এটিকে একটি umbrella category বলা যেতে পারে যার মধ্যে Augmented Reality (AR), Virtual Reality (VR), Mixed Reality (MR)-সহ আরো যা যা সম্ভব সব থাকবে। গ্রাফিক্স এবং বিভিন্ন ওয়্যারেবল ডিভাইসের মাধ্যমে যত ধরণের ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট জেনারেট করা সভব তার সবগুলো পাওয়া সম্ভব এই Extended Reality-এর মাধ্যমে। এছাড়াও AR, VR, MR প্রত্যেকটারই কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যা XR দিয়ে দূর করা সম্ভব।

Indoor Map: Google Map দিয়ে আউটডোর ম্যাপিং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব। কিন্তু ইনডোর ম্যাপিং অর্থাৎ আপনার আশেপাশের এলাকায় কি হচ্ছে বা আপনার পাশের রুমে কি হচ্ছে তা দেখা যাবে সিক্সজির বদৌলতে। পারসোনাল সিকিউরিটি এবং এলাকাভিত্তিক আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই প্রযুক্তি অনেক কাজে আসবে।


Requirements
 
সিক্সজির যুগে স্বাভাবিকভাবেই কনজিউমাররা নতুন এবং উন্নত প্রোডাক্ট ও সার্ভিস পাবে। কিন্তু তার জন্য প্রযুক্তিগত সাপোর্টও দরকার। দ্রুততর গতিতে রিয়েল টাইম ডাটা প্রসেসিং এবং সিগন্যালের low latency-এর প্রয়োজনীয়তার কথা আগেই বলেছি। এগুলোর সাথে বর্তমান মোবাইল ডিভাইসগুলোর ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে হবে। সেই সাথে নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচারাল হেলথ এবং AI integration এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ও ডাটা সিকিউরিটির বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা না বললেই নয়। 
Computing power: Requirement vs Capability Source: Samsung 6G White Paper

Performance Requirements: 

সিক্সজির মাধ্যমে উন্নত মাল্টিমিডিয়া সার্ভিস পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দরকার দ্রুতগতির ডেটা রেট। ফাইভজিতে সর্বোচ্চ ২০ জিবিপিএস পর্যন্ত ডাটারেট পাওয়া সম্ভব; আর সিক্সজির জন্য গবেষকরা মনে করছেননা ৫০০ জিবিপিএসের কম স্পিডে সার্ভিসগুলো চালানো সম্ভব।

Air Latency সম্পর্কে আগেই বলেছি; ডিভাইস থেকে কাছের টাওয়ার এ যেতে সিগনালের যে সময় লাগে। প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষকরা Air Latency এর টার্গেট ধরেছেন ১০০ মাইক্রোসেকেন্ডের কম; End-to-End (E2E) মানে User-to-User বা Device-to-Device Latency এর টার্গেট ধরা হয়েছে ১ মিলিসেকেন্ডের কম।
 
যেকোন টেলিফোনি নেটওয়ার্ক সার্ভিসের জন্য কাভারেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সিক্সজিও তার ব্যতিক্রম নয়। ফোরজির ক্ষেত্রে কাভারেজের স্পিড হলো ৩৫০ কি.মি./ঘন্টা, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে কোন সিগন্যাল ৩৫০ কি.মি. দূরত্ব অতিক্রম করে। ফাইভজির ক্ষেত্রে এটি ৫০০ কি.মি./ঘন্টা। সিক্সজির জন্য কাভারেজ স্পিড ৭০০-৮০০ কি.মি./ঘন্টা পর্যন্ত উন্নীত করা লাগতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। 

Comparison 5G-6G. Source: Samsung 6G White Paper

Architectural Requirements:

বর্তমান ফোরজি বা আপকামিং ফাইভজি টেকনোলজির মাধ্যমে ডিভাইসগুলোর কম্পিউটেশনাল এবিলিটি অর্জন হলেও তা বেশ লিমিটেড। সিক্সজির মাধ্যমে আমরা Extended Reality, Extensive AI Integration, Hologram সহ আরো যেসব সুবিধা পাওয়ার আশা করছি ঐগুলো পেতে ডিভাইসগুলোর কম্পিউটেশনাল এবিলিটি অনেক বাড়াতে হবে। সেই সাথে নেটওয়ার্ক ডিজাইন এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে ডিভাইসগুলোর কম্পিউটেশনাল এবিলিটির সর্বোচ্চ সুবিধা নেয়া যায়। স্যামসাং এটাকে বলছে, "Communications and Computing Convergence"।

ফোরজিতে ডিভাইসগুলো প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেশন ক্লাউড কম্পিউটেশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ক্লাউড কম্পিউটিং মানে আমরা অনেকেই জানি; কোম্পানিগুলো ডেটা স্টোরেজের ক্ষেত্রে নিজেদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডেটা সেন্টার ব্যবহার না করে ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকে স্টোরেজ সাবস্ক্রাইব করে নেয়, সেই সাথে কিছু কম্পিউটেশনাল সুবিধাও পায়। ফাইভজিতে ক্লাউড কম্পিউটিং রিপ্লেস হয়েছে বা হবে এজ কম্পিউটিং (Edge Computing) দিয়ে। তার মানে এই না যে ক্লাউড কম্পিউটিং চলে যাচ্ছে; ক্লাউড থাকবে এবং বেশ ভালভাবেই থাকবে। এজ কম্পিউটিং-এর মানে হচ্ছে কোন কোম্পানি যে ক্লাউডটি ব্যবহার করবে সেটি সোর্চ/সাবস্ক্রাইবার মানে কোম্পানিটির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবে। ধরেন কোন কোম্পানি ডেটা স্টোরেজের জন্য Google Drive ব্যবহার করে। এই সার্ভিসটি দেয়ার জন্য Google তার নিজের সার্ভার ব্যবহার করে আবার বিভিন্ন দেশে Google এর যে সার্ভারগুলো রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে। এখন মনে করেন, কয়েকটি দেশের জন্য একটি সার্ভার না থেকে যদি এমন হয় একটি দেশের জন্য একটি সার্ভার এবং ঐ সার্ভারের অবস্থানও ঐ দেশের অনেক কাছে তাইলে কেমন হয়? হ্যাঁ, এই কাজটিই করার চেষ্টা করা হচ্ছে ফাইভজি টেকনোলজিতে। এর ফলে যেটা হবে Air latency কম হবে, জটিল ক্যাল্কুলেশনগুলি ডিভাইসগুলো অনেক তাড়াতাড়ি করতে পারবে এবং কম ব্যান্ডউইথ দরকার হবে তাই খরচও কমে আসবে। তাহলে সিক্সজিতে কি হবে? সিক্সজিতে এই এজ কম্পিউটিংকে আরো উচ্চমাত্রায় উত্তীর্ণ করা হবে; যেমন এক দেশ এক সার্ভার থেকে এক দেশের ৫০টি কোম্পানির জন্য এক সার্ভার করা হতে পারে। ডিভাইসগুলোর কম্পিউটেশনাল এবিলিটি বাড়ানো হবে, সেই সাথে হাই-এন্ড ডিভাইস যেমন এরোপ্লেন, Low Earth Orbit (LEO) বা Geo-stationary Orbit (GEO) ্স্যাটেলাইট, ইত্যাদি সিক্সজি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে। 

Architectural Evolution. Source: Samsung 6G White Paper


Who are working
 
গত বছরে (২০১৯) বেশ কিছু মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইস উৎপাদনকারী কোম্পানি সিক্সজি নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এক্ষেত্রে দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে এগিয়ে। স্যামসাং ও এলজি ইতোমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াতে সিক্সজি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে যার মাধ্যমে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট চালানোর পরিকল্পনা আছে তাদের। পিছিয়ে থাকেনি চায়নাও; Huawei ইতোমধ্যেই সিক্সজি-ভিত্তিক প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। কিছুটা পরে শুরু করলেও কোরিয়া ও চায়নাকে ধরে ফেলতে আশাবাদী জাপান। এই বছরের (২০২০) জানুয়ারীতে জাপান তাই শুরু করেছে সিক্সজি প্রজেক্টের কাজ। Ericsson এবং আরো কিছু সুইডিশ কোম্পানি সম্মিলিতভাবে সিক্সজি প্রজেক্টের কাজ শুরু করে গত বছর।  ফিনল্যান্ডের University of Oulu, 6Genesis নামে একটি গবেষণা প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছে, যার সাথে যুক্ত আছে Nokia। আমেরিকাও সিক্সজি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণাকার্যের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি স্পেক্ট্রাম বরাদ্দ করেছে। Sony, NTT Docomo এবং Intel পার্টনারশিপের মাধ্যমে সিক্সজি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ান টেলিকম কোম্পানি SK Telecom, অন্য আরো কোম্পানি যেমন Ericsson, Nokia ও Samsung এর সাথে সম্মিলিতভাবে সিক্সজি প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছে।


মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি এবং মোবাইল টেলিফোনি সিস্টেম ইতোমধ্যেই অনেক উন্নত হয়েছে। সিডিএমএ (CDMA), টুজি যুগ পার হয়ে আমরা ফোরজি যুগে পা রেখেছি। বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই ফাইভজি ডিপ্লয়মেন্টের কাজ শুরু করলেও এর কমার্শিয়াল সাক্সেস নির্ণয় করতে সময় লাগবে। বাংলাদেশেও ২০২১ সালে ফাইভজি ডিপ্লয়মেন্টের টাইমলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সিক্সজি নিয়ে চিন্তা করা অনেকটা গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল গোছের শোনালেও সিক্সজি ডিপ্লয়মেন্টের ক্ষেত্রে দরকারী গবেষণার জন্য সময় এবং বাজেট নির্ধারণের জটিলতা বিবেচনা করলে এটি বেশ সময়েপযোগী সিদ্ধান্তই হয়েছে বলে মনে হয়। 



Reference:










Monday, September 7, 2020

Jio Investment Mania - কেন বিশ্বের টেক জায়ান্টগুলো ইনভেস্ট করছে Jio তে

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ক্ষুদ্র ও মাঝারী আকারের ব্যবসায়ীদের যেখানে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেখানে টেলিকম ও ই-কমার্সসহ কনজাম্পশন-বেইজড প্রোডাক্ট সরবরাহকারী বড় বড় কোম্পানীর মালিকরা বহুগুণে তাদের ব্যবসা বাড়িয়ে নিয়েছেন। Reliance Industries Ltd. (RIL) এর মালিক মিঃ মুকেশ আম্বানী তাদের মধ্যেই একজন। এই করোনাকালে তিনি এসে গিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনীর এলিট লিস্টে। গত ২২শে এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৫ই জুলাই রিলায়েন্সের এজিএম পর্যন্ত সর্বমোট ১৩টি কোম্পানি রিলায়েন্সের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, Jio Platforms Ltd. (JPL) - এ ইনভেস্ট করার ঘোষণা দিয়েছে। এজিএমের বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে সপ্তাহ প্রতি ১টির বেশি ডিল পকেটে পুরেছেন মিঃ আম্বানী। কেন হঠাৎ করে বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো ইনভেস্ট করছে Jio Platforms এ? এইসব নিয়েই আলোচনা করবো আজকের লেখায়।

History of Jio Platforms Ltd. (JPL)

Jio Platforms Ltd. হচ্ছে রিলায়েন্সের ডিজিটাল বিজনেস সাবসিডিয়ারি। ২০১৯ এর অক্টোবরে রিলায়েন্স তাদের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের অংশ হিসেবে Jio Platforms প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন কারণে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডিয়ারি Reliance Jio আলোচনায় থাকলেও অন্যান্য ডিজিটাল বিজনেসগুলো বেশ আড়ালেই ছিল। অবশেষে গতবছর রিলায়েন্স, তার টেলিকম বিজনেস ও অন্যান্য ডিজিটাল বিজনেসগুলো একই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করে আলাদা ডিজিটাল বিজনেস সাবসিডিয়ারি বানিয়ে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Companies under Jio Platforms

Source: RIL Annual Report FY2020

  1. Reliance Jio Infocomm Ltd. ছোটভাই অনিল আম্বানির সাথে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কলহের সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নন-কম্পিট এগ্রিমেন্টের কারণে মুকেশ আম্বানির এনার্জি ও টেলিকমসহ আরো কিছু ব্যবসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। আবার অনিল আম্বানির এনার্জি ও টেলিকম ব্যবসার অবস্থা ছিলো নাজুক। সুযোগটা হারাতে চাননি মুকেশ আম্বানি। ২০১০ সালে ভারতে Broadband Wireless Access (BWA) এর ফোরজি লাইসেন্সের নিলামের কিছুদিন আগে ছোটভাইয়ের ডুবতে বসা এনার্জি বিজনেস বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তিনি। বিনিময়ে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নন-কম্পিট এগ্রিমেন্টটি রদ করান তিনি। যার ফলে টেলিকম ব্যবসায় প্রবেশের আর কোন বাধা ছিলোনা তার। ফোরজি লাইসেন্সের নিলামে Infotel Broadband Services Ltd. (IBSL) নামের এক অখ্যাত ব্রডব্যান্ড কোম্পানি ১২,৮৪৮ কোটি রুপি বা ২.৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্পেক্ট্রাম কিনে নেয়। নিলাম শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেক পরে কোম্পানিটির ৯৫% শেয়ার কিনে নেন মুকেশ আম্বানি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে Infotel Broadband এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Reliance Jio Infocomm Ltd. বা Reliance Jio (RJio)। পরে ২০১৫ সালে স্বল্প আকারে এবং ২০১৬ সালে পুরোদমে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডিয়ারি হিসাবে ব্যবসা শুরু করে Jio।
  2. MyJio হচ্ছে Jio'র সুপার অ্যাপ, অর্থাৎ গ্রাহক অনেকগুলো সার্ভিস একসাথে এই অ্যাপে পায়। বেসিক টেলিকম সার্ভিস যেমন ভয়েস ও ডাটা প্ল্যান ঠিক করা, রিচার্জ করা, বিল পেমেন্ট তো আছেই, এসবের সাথে গান শুনা, মুভি, টিভি শো দেখা এসব সুবিধাও পাওয়া যায় এই সুপার অ্যাপে। ২০১৬ সালে প্লে স্টোরে এসে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডাউনলোড অতিক্রম করে MyJio অ্যাপ। এই বছরের শুরুতে, জানুয়ারির ১৪ তারিখে, MyJio অ্যাপে 'Jio Mini Apps" নামে একটি ফিচার আনা হয় যেখানে Jio Platforms এর আরো কিছু সার্ভিস যেমন - JioCloud (Cloud Service), JioTV (Streaming Service), JioCinema এবং JioEngage (Game Playing Platform), ইত্যাদি সংযুক্ত করা হয়। একই দিনে MyJio অ্যাপে UPI payment চালু করার মাধ্যমে ভারতে প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে এই পেমেন্ট সার্ভিস দেয়া শুরু করে Jio। UPI বা Unified Payment Interface এর মাধ্যমে মোবাইল প্ল্যাটফর্মে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টার-ব্যাঙ্ক ট্রান্সেকশন করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, UPI payment provider হিসেবে ট্রাকশন পেতে Google Pay, Paytm, Phone Pe, ইত্যাদি টপ প্লেয়ারদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে Jio কে।
  3. JioTV এবং JioTV+ এর মাধ্যমে স্ট্রিমিং সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছে রিলায়েন্স। JioTV-এর মাধ্যমে Jio-র কাস্টমাররা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও প্রোগ্রামসমূহ স্মার্ট ফোন ও ট্যাবলেটে দেখতে পারে।
  4. JioNews হচ্ছে নিউজ চ্যানেল, ৮০০টিরও বেশি ম্যাগাজিন ও ৩০০টির বেশি নিউজপেপার সম্বলিত Jio Platforms এর একটি  অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন।
  5. JioCloud হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ, ডাটা ব্যাকআপ এবং ফাইল ট্রান্সফার সার্ভিস সম্বলিত Jio Platforms এর অ্যাপ্লিকেশন।
  6. JioCall দিয়ে টুজি, ত্রি-জি এবং ফোরজি-এলটিই সাপোর্টেড স্মার্টফোনে ফোরজি-এইচডি ভয়েস কল এবং ভিডিও কল করা যায়। এছাড়াও Rich Communication Services (RCS) সুবিধার মাধ্যমে কলের মধ্যে থাকা অবস্থায় লোকেশন শেয়ারিং, ডুডল এড করা, গ্রুপ চ্যাট করা, ইত্যাদিও করা যায়।
  7. JioChat এর মাধ্যমে ডাটা কলিং, ভিডিও কলিং ও চ্যাটিং ফ্যাসিলিটি দিয়ে আসছে Jio। এছাড়াও JioMeet এর মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং ও ওয়েব কনফারেন্সিং সার্ভিস দিচ্ছে Jio।
  8. এসব ছাড়াও JioHealthHub (হেলথকেয়ার সার্ভিস অ্যাপ), JioSecurity (মোবাইল সিকিউরিটি সার্ভিস), JioSwitch (ফাইল ট্রান্সফার ও শেয়ারিং অ্যাপ), JioBrowser, ইত্যাদি বিভিন্ন সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে স্ট্রং ব্র্যান্ড পজিশনিং করতে সক্ষম হয়েছে Jio।
  9. JioMoney হচ্ছে Jio-র ডিজিটাল ওয়ালেট যা দিয়ে ফোনে অর্থ জমা রাখা এবং তা দিয়ে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে পেমেন্ট করার সুবিধা পাওয়া যায়।
  10. JioMart এর মাধ্যমে এই বছর ই-কমার্স বিজনেসে প্রবেশ করলো রিলায়েন্স। ক্ষুদ্র ও মাঝারী ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এই শপিং পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে WhatsApp Business App এ সংযুক্ত থেকে অর্ডার গ্রহণ করবে ও পণ্য বিক্রয় করবে। আর ক্রেতারা WhatsApp-এর মাধ্যমে পণ্য অর্ডার দিতে পারবে। আরেক ই-কমার্স জায়ান্ট Amazon ইতোমধ্যে JioMart এ বিনিয়োগের ইংগিত দিয়েছে।
  11. উল্লেখযোগ্য Merger & Acquisitions:
    • JioSaavn (Jio-Saavn): অনলাইন মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম
    • Jio-Embibe: ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম
    • Jio-Radisys: 5G ও IoT-ভিত্তিক সার্ভিসের জন্য সফটওয়্যার সলিউশন্স কোম্পানি

Timeline of Jio Investment Mania
  • ২২শে এপ্রিল সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট Facebook, Jio Platforms এ ৪৩,৫৭৪ কোটি রুপি বা ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ১০% শেয়ারের সমতুল্য। এটি ভারতের টেক সেক্টরে সবচেয়ে বড় Foreign Direct Investment (FDI)।
  • ২রা মে টেক সেক্টরে বিনিয়োগকারী ফার্ম Silver Lake Partner্‌ Jio Platforms এর ১.২% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৫,৬৫৬ কোটি রুপি বা ০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ৮ই মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম Vista Equity Partners, Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
  • ১৭ই মে General Atlantic, Jio Platforms এর ১.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৬,৫৯৮ কোটি রুপি বা ০.৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ২২ই মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম KKR & Co., Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
  • ৫ই জুন, আবুধাবীভিত্তিক সভরেইন ইনভেস্টর Mubadala Investment Company, Jio Platforms এ ৯,০৯৪ কোটি রুপি বা ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ১.৯% শেয়ারের সমতুল্য। একই দিনে Silver Lake Partner্‌s আরো ৪,৫৪৭ কোটি রুপি বিনিয়োগের মাধ্যমে ০.৯% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
  • ৭ই জুন Abu Dhabi Investment Authority (ADIA), Jio Platforms এর ১.২% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৫,৬৮৪ কোটি রুপি বা ০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ১৩ই জুন অল্টারনেটিভ অ্যাসেট কোম্পানি TPG, Jio Platforms এ ৪,৫৪৬ কোটি রুপি বা ০.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ০.৯% শেয়ারের সমতুল্য। একই দিনে কনজিউমার-কোম্পানি ফোকাসড প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম L Catterton ১,৮৯৫ কোটি রুপি বিনিয়োগের মাধ্যমে ০.৪% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
  • ১৮ই জুন সৌদি আরবের একটি পাব্লিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ৩ই জুলাই বিশ্ববিখ্যাত সিপিউ মেকার Intel এর ইনভেস্টমেন্ট সাবসিডিয়ারি, Intel Capital, Jio Platforms এ ১,৮৯৫ কোটি বা ০.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির ০.৪% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়।
  • ১২ই জুলাই বিশ্ববিখ্যাত চিপমেকার Qualcomm এর ইনভেস্টমেন্ট সাবসিডিয়ারি, Qualcomm Ventures, Jio Platforms এ ৭৩০ কোটি বা ০.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির ০.২% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়।
  • সবশেষে ১৫ই জুলাই, রিলায়েন্সের এজিএমের দিনে, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি গুগল, Jio Platforms এর ৭.৭% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ৩৩,৭৩৭ কোটি রুপি বা ৪.৪ বিলিয়ন ডলার, যা এই ১৪টি ইনভেস্টমেন্ট ডিলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ঘোষণার একদিন আগে গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি Alphabet এর সিইও মিঃ সুন্দর পিচাই ভারতে আগামী ৫-৭ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। 
সর্বমোট ৮টি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম ৭.৯ ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিলো Jio Platforms এ, যা যথাক্রমে ফেসবুক ও গুগলের বিনিয়োগের ৪০% ও ৮০%  বেশি।

Source: NDTV

Products & Services from the Investments
  • Jio-Facebook: গত বছরের ডিসেম্বরে Jio তাদের অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম JioMart এর কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু করে। আর Facebook এর পক্ষ থেকে বিনিয়োগের ঘোষণা আসার দিন দুয়েক পরে অনলাইনে আত্নপ্রকাশ করে JioMart। Jio-তে Facebook এর ইনভেস্টমেন্ট ভারতের ই-কমার্স ব্যবসায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলো। FlipKart ভারতীয় ই-কমার্স সেক্টরের ৬০% শেয়ার দখলে রাখলেও Walmart এর মালিকানা থাকার কারণে রেগুলেটরি বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে দেশী কোম্পানি হওয়ার সুবাদে Jio সরকারী আনুগত্যের কারণে তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ পাবে। 
  • Jio-Google: ভারতের বিপুল পরিমাণ গরীব জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্প দামের স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে Jio তে বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেয় Google। এর আগে কোম্পানিটি "Google For India" নামের একটি Digitization Fund এর মাধ্যমে ভারতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। Jio তে বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৪.৫ বিলিয়ন ডলার সেই ফান্ডেরই একটা অংশ। Jio-এর প্রায় ৪০ কোটি টেলিকম সার্ভিস সাবস্ক্রাইবারদের কাছে এফোর্ডেবল স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে দ্রুত স্মার্টফোনের বাজার দখল করাই গুগলের লক্ষ্য।
  • Jio-Silver Lake: US-ভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানি Silver Lake টেকনোলজি সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য বিখ্যাত। সর্বশেষ আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির Asset Under Management (AUM) প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। Twitter, Alibaba, Ant Financial, Dell সহ আরো কিছু লিডিং টেক কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছে Silver Lake। এসব ইনভেস্টমেন্ট থেকে বছরে ২০৪ বিলিয়ন ডলারের মত আয় হয় Silver Lake এর। ২০০৯ সালে ebay এর কাছ থেকে ১.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে Skype-কে কিনে ২০১১ সালে Microsoft এর কাছে ৮.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করার মাধ্যমে প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল exit deal সম্পন্ন করার রেকর্ড নিজের কাছে রেখেছে Silver Lake। ২০১৩ সালে ভারতে প্রথম বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি। Jio Platforms-এ সর্বমোট ১০২০২.৫৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে Silver Lake, যা প্ল্যাটফর্মটির ২.০৮% শেয়ারের সমতুল্য।
  • Jio-KKR: ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম KKR এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি টেক কোম্পানিতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে আছে BMC Software, TikTok এর প্যারেন্ট কোম্পানি ByteDance, Gojek ইত্যাদি। Jio-এর সাথে deal এশিয়া মহাদেশে KKR এর সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট।
  • Jio-General Atlantic: অপর নিউইয়র্কভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম General Atlantic-এর ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওতে হেলথকেয়ার, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস এবং টেকনলজি সেক্টরের বিভিন্ন কোম্পানি আছে। Uber, Airbnb, Alibaba, ANT Financial, ByteDance, Box, Snapchat এবং Facebook এর মত কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছে ফার্মটি। Jio ছাড়াও ভারতে আগেও ইনভেস্ট করেছে General Atlantic। বেঙ্গালুরোভিত্তিক অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টিং স্টার্টআপ NoBroker, Education Tech বা Edtech কোম্পানি Unacademy ও Byju's, পেমেন্ট প্রসেসর কোম্পানি Billdesk এবং National Stock Exchange of India (NSE) রয়েছে General Atlantic এর পোর্টফোলিওতে।
  • Jio-Qualcomm: 5G infrastructure প্রতিষ্ঠা এবং সার্ভিস প্রদান সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে Qualcomm Ventures এর কাছে শেয়ার বিক্রি করেছে Jio। এতে করে Jio 5G Technology rollout করতে Qualcomm Inc. এর পূর্ণ সাপোর্ট পাবে।
  • Jio-Intel: 5G technology rollout এর ক্ষেত্রে Intel থেকেও সাপোর্ট পাবে Jio। এছাড়াও Jio এর  বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সার্ভিসে Artificial Intelligence (AI), Internet of Things (IoT) - এর প্রয়োগের ক্ষেত্রেও Intel কাজ করবে। ভবিষ্যতে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বিক্রির পরিকল্পনাও আছে Jioর; যার জন্য Intel এর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে কোম্পানিটি।
  • Jio-Vista: Vista এর ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম, প্রোডাক্ট ও সার্ভিসে AI, IoT, Blockchain, Augmented Reality (AR)/Virtual Reality (VR)-সহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের সুযোগ পাবে Jio।
Behind the Mania
কেন মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এতগুলো বড় বিনিয়োগ হল? Jio-ই বা কেন নিজেদের প্ল্যাটফর্মের প্রায় এক তৃতীয়াংশ শেয়ার বিক্রি করে দিলো? চলুন পিছনের কারণগুলি দেখা যাক - 

১) বেশ কিছু কারণে ইনভেস্টরদের বিশেষ করে প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টরদের White list-এ আগে থেকেই ছিল Jio; আর সেগুলো হল - ১৩০ কোটি জনসংখ্যার বাজারে Jio-র আধিপত্য, লোনমুক্ত পোর্টফোলিও এবং রেগুলেটরি দিক থেকে নিরাপদ অবস্থান। সেই সাথে গত বছর Jio Platforms এর অপারেশন শুরু করা ছিল Jio-র মাস্টারস্ট্রোকগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইন ও টেকনোলজি-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোতে দ্রুত কাস্টমার বাড়াতে সক্ষম হয়েছে Jio। এসব কারণে Jio বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

২) Jio এখন আর শুধুমাত্র একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর না, প্রায় সব ধরণের ডিজিটাল বিজনেসে প্রবেশ করা একটি পরিপূর্ণ টেক কোম্পানি। আর এইসব কারণে Jio Platforms ইনভেস্টরদের কাছ থেকে higher valuation পেয়েছে। প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানিগুলো প্ল্যাটফর্মটিকে তার ইক্যুইটির জন্য প্রায় ৪.৯ ট্রিলিয়ন রূপি ভ্যালুয়েশন দিচ্ছে, Facebook ও Google দিচ্ছে ৪.৪ ট্রিলিয়ন রূপি।

৩) টেলিকম ব্যবসাসহ আরো অন্যান্য ব্যবসাসমূহ খুব অল্প সময়ের মধ্যে শুরু করার দরুন রিলায়েন্সের লোনবুক দিনদিন বড় হয়েছে। ডিজিটাল বিজনেসের জন্য লোনবিহীন আলাদা Entity প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে বড় রকমের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং তা দিয়ে রিলায়েন্সের লোনবুক ছোট করাই ছিলো Jio Platforms বানানোর উদ্দেশ্য।


সাবসিডিয়ারি হওয়ার কারণে Reliance Jio-থেকে ১ লাখ কোটি রুপির লোন রিলায়েন্সের ঘাড়ে আসে, কিন্তু সেই সাথে সমপরিমাণ ক্যাশও আসে রিলায়েন্সের কাছে। এই ক্যাশের উৎস কি? এর আগে Jio Platforms, Reliance Jio এর ইস্যু করা Preferred Shares সাবস্ক্রাইব করে; আর তা থেকে প্রাপ্ত ক্যাশই প্যারেন্ট কোম্পানিতে ট্রান্সফার করে Jio। এখন প্রশ্ন হল এই শেয়ার সাবস্ক্রাইব করার জন্য টাকা কোত্থেকে পেল Jio Platforms। এই টাকা পেয়েছে প্যারেন্ট কোম্পানি রিলায়েন্সের কাছ থেকেই। কি, মাথা ঘুরছে?
গত বছরের শুরুর দিকে Jio Platforms-ও Reliance Jio-র মত একই পদ্ধতিতে Preferred Shares ইস্যু করে এবং সেগুলো সাবস্ক্রাইব করে রিলায়েন্স। ঘুরে ফিরে কি দাঁড়াচ্ছে? রিলায়েন্স তার নিজের ক্যাশ ব্যবহার করেছে Jio Platforms এ ফাইনান্সিংয়ের জন্য; সেই ক্যাশ Jio Platforms ব্যবহার করেছে টেলিকম সাবসিডিয়ারি Reliance Jio তে ফাইনান্সিংয়ের জন্য; এই অর্থ আল্টিমেটলি Jio, প্যারেন্ট কোম্পানি রিলায়েন্সকেই ফেরত দিয়েছে। এভাবে রিলায়েন্স তার টেলিকম সাবসিডিয়ারি কাছে থেকে লোনের সাথে নিজের ক্যাশও ফেরত পেয়েছে। গত ৩ মাসে যতগুলি Deal হয়েছে, প্রতিটি ইনভেস্টমেন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থের কিছু অংশ Jio Platforms নিজের কাছে রাখবে, বাকিটা দিয়ে রিলায়েন্সের লোন পরিশোধ করা হবে।


৪) আমেরিকা-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভারত-চীন এর মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষের সূত্র ধরে ইন্ডিয়ান কোম্পানিগুলোর মধ্যে Data Sovereignty নিয়ে কনসার্ন বেশ জোরদার হচ্ছে। টেলিকম ও ডিজিটাল পেমেন্ট-সহ আরো বিভিন্ন সেক্টরের জায়ান্টদের কাছে বিপুল সংখ্যক ডাটা রয়েছে। চীন আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন কোম্পানির কাছে যাতে ভারতীয় ডাটার অবাধ একসেস না থাকে, সেজন্য প্রোটেকশনিস্ট আইন করা নিয়েও ব্যাপক সোচ্চার সেক্টর জায়ান্টরা। আর এইসব কারণে Google, Facebook, Amazon, Microsoft এর মত US টেক জায়ান্টরা ভারতে তাদের কার্যক্রম চালাতে বিভিন্ন রেগুলেটরি বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে। Jio তে Facebook, Google এর ইনভেস্টমেন্টকে তাই ভারতে বিদেশী কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের ব্যাপারে রেগুলেটরি বিধিনিষেধের ব্যাপারে কিছুটা হলেও শৈথিল্য পাওয়া এবং ভারতীয় ডাটার একসেস পাওয়ার রাস্তা ভাবলেও ভুল হবেনা।

বিশ্বজনীন না হলেও অন্তত ভারতের টেকনোলজি-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর কিভাবে ব্যবসা করা উচিত তা শিখাচ্ছে রিলায়েন্স। পরবর্তীতে বিশ্বের টেক কোম্পানিগুলোও হয়ত রিলায়েন্সের দেখানো পথেই হাঁটবে।

Friday, July 3, 2020

ঋণাত্মক তেলের দাম - তেলের কম দামের সুবিধা কতটুকু নিতে পেরেছে বাংলাদেশ

এই বছরের ২০শে এপ্রিল বিশ্ব বাণিজ্যের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম নেমে যায় শূন্যের নিচে, প্রতি ব্যারেলে -৩৭.৬৩ ডলারে। অর্থাৎ নিজেদের মজুদে থাকা প্রতি ব্যারেল তেল সরাতে বিক্রেতারা উল্টো ক্রেতাদেরকে ৩৭.৬ ডলার করে মূল্য দিয়েছেন। এত কম দামে তেল পেয়ে বড় আমদানিকারক দেশগুলোও কিছু সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছে। পুরো বিষয়টি ব্যাখা করার চেষ্টা করা হয়েছে এই লেখায়।

 

বিশ্ববাজারে বিভিন্ন গ্রেডের অপরিশোধিত তেল আছে; সবচেয়ে পপুলার দুটি গ্রেড হলো - ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড অয়েল, সংক্ষেপে ব্রেন্ট ক্রুড(Brent Crude) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েল, সংক্ষেপে ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude)। উত্তর সাগরের আশেপাশের ক্ষেত্র থেকে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েল উত্তোলিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিং (Cushing) এবং তার আশেপাশের বিভিন্ন তেল ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত হয় ডব্লিউটিআই ক্রুড। আফ্রিকা, ইউরোপ ও মিডল ইস্টের দেশগুলোর তেলের দাম নির্ধারিত হয় ব্রেন্ট ক্রুডের মাধ্যমে এবং আমেরিকার ক্ষেত্রে হয় ডব্লিউটিআই ক্রুডের মাধ্যমে। কমোডিটি মার্কেটে তেলসহ আরো বেশ কিছু কমোডিটির ফিউচারস(Futures) ট্রেডিং হয় যেখানে কোন মাসে একটি কমোডিটির দাম কত হবে তা নির্ধারিত হয় আগের কোন এক মাসে। তেলের ক্ষেত্রে এক মাস পর দাম কত হবে তা নির্ধারণ করা হয় আগের মাসে অর্থাৎ মে মাসে তেলের দাম কত হবে তা নির্ধারণ করা হয় এপ্রিলে। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে হয় যে, ডব্লিউটিআই এর ক্ষেত্রে কোন এক মাসের ফিউচারস কন্ট্রাক্ট শেষ হলে সেটেলমেন্টের সময় তেলের ডেলিভারি নিতে হয় বা ঐ কন্ট্রাক্ট অন্য কাউকে বিক্রি করে দিতে হয়। ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রে নগদ মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সেটেলমেন্ট হয়; তেল ডেলিভারি নেয়ার দরকার হয়না।

Source: Visual Capitalist



Countries on the edge of North Sea.  Source: Google Map


করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব অর্থনীতি একরকম স্থবির হয়ে পড়ে, যার বড় রকমের প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে। চাহিদা কমার সাথে সাথে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো সে হারে উৎপাদন কমায়নি। পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় যখন সৌদি আরব ও রাশিয়া তেলের বাজারে নিজেদের শেয়ার ধরে রাখতে গিয়ে "তেল যুদ্ধে"(Oil War) জড়িয়ে পড়ে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি থাকায় উৎপাদনকারী দেশগুলোর গুদামে জমতে জমতে থাকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল। মিডল ইস্টের দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুদ করার ক্যাপাসিটি এমনিতেই কম। তার উপর চোখ রাঙাচ্ছিলো ডব্লিউটিআই কন্ট্রাক্টের তেল ডেলিভারির মাধ্যমে সেটেলমেন্টের বিষয়টি। অবশেষে যা হওয়ার তাই হয়; মে মাসের কন্ট্রাক্টের শেষ দিন মানে এপ্রিলের ২০ তারিখে সেটেলমেন্টের নিয়ম মেনে তেল ডেলিভারি নেয়ার জন্য উৎপাদকরা উল্টো ক্রেতাদেরকে মুল্য পরিশোধ করেন। ঐদিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের সর্বনিম্ন মূল্য ছিলো -৪০ ডলার (প্রতি ব্যারেল), দিনশেষে যা দাঁড়ায় -৩৭.৬৩ ডলারে। ইনভেন্টরি ক্লিয়ারেন্স ও তেল ডেলিভারির মাধ্যমে সেটেলমেন্টের ব্যাপার না থাকার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অবশ্য এরকম ধ্বংসযজ্ঞ দেখেনি; তার দাম ছিল প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলারের আশেপাশে।




Source: FactSet, CNBC

 


Source: Refinitiv, The Economist

বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর লকডাউন শিথিল করার সাথে সাথে তেলের চাহিদাও বেড়েছে, দামও অবশ্যই শূন্যের নিচে পড়ে থাকেনি; বরং বেশ বেড়েছে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও কয়েক দফায় উৎপাদন কমিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। জুনের ৬ তারিখে সংঘটিত হওয়া ওপেকভুক্ত দেশগুলো (OPEC - Organization of Petroleum Exporting Countries) ও রাশিয়ার মধ্যকার বৈঠকে জুলাই মাস পর্যন্ত দিনপ্রতি গড় উৎপাদনের চেয়ে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল কম তেল উৎপাদনের ব্যাপারে উৎপাদনকারী দেশগুলো সম্মত হয়। জুনের শেষে ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ছিলো ব্যারেল প্রতি ৩৯.৩ ডলার আর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিলো ৪১.২ ডলার। তারপরো তেলের দাম সহসা গত বছরের লেভেলে মানে ব্যারেল প্রতি ৫৫ - ৬৫ ডলারে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। কারণ আমেরিকান তেলের খনিগুলো এখনো ফুল স্কেলে প্রোডাকশন শুরু করতে পারেনি। তারা এপ্রিল-মের ইনভেন্টরি ক্লিয়ার করতেই ব্যস্ত। আর তেলের চাহিদাও ২০২১ সালের আগে করোনা-পূর্ববর্তী লেভেলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিভিন্ন দেশে এখনো যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হয়নি। পুরো তেল চাহিদার ১০% যার কাছে, সেই এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির তেলের ব্যবহার করোনা-পূর্ববর্তী লেভেলে ২০২২ সালের আগে যেতে পারবে বলে মনে করছেননা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টরা। আমেরিকান এনারজি ইনফরমেশন এডমিনিস্ট্রেশনও (U.S. Energy Information Administration - EIA) অনুমান করছে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে পৌঁছাতে ২০২১ সাল লেগে যেতে পারে।

 

 


                                                                                Source: Motley fool


উপরের এনালাইসিস থেকে এটুকু বলা যেতে পারে, তেলের চাহিদা, উৎপাদন ও মূল্য করোনা-পূর্ববর্তী লেভেলে যেতে বেশ সময় লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা উচিত। যেসব দেশের বেশি তেল মজুদ করে রাখার ভাল ক্যাপাসিটি আছে সেসব দেশ তেলের কম দামের সুবিধা বেশি নিতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে চীন ও ভারতের কথা বলা যেতে পারে। তেলের দাম ২০ ডলারে নামার সাথে সাথে চীন দৈনিক তেলের মজুদের হার (Stockpiling rate) দ্বিগুণ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই বছর শেষে চীনের তেলের মজুদ ১ বিলিয়ন ব্যারেল ছাড়াতে পারে। অবশ্য শুধু তেলের কম দামের সুবিধা নিতে চীন মজুদ বাড়াচ্ছে তা না। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল আমদানিকারক দেশ; পুরো আমদানিকৃত তেলের ২৩% চীন একা করে। করোনাভাইরাসের কারণে আরোপকৃত লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে চীনের অর্থনীতি দ্রুততম গতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে আছে। তেলের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে মজুদের সামঞ্জস্য রাখতেই চীন দ্রুতগতিতে স্টকপাইলিং করছে।

ভারত কি করছে? ভারত বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক দেশ; নিজেদের তেল চাহিদার ৮৫% আমদানির মাধ্যমে মিটিয়ে থাকে তারা। দেশটির ৬৫ দিনের তেল মজুদ করে রাখার ক্যাপাসিটি আছে। ভারত ইতোমধ্যেই ৩২ মিলিয়ন টনের বেশি তেল মজুদ করেছে তাদের Strategic Petroleum Reserve এর আওতায়; তেলের কম দামের কারণে ৫০০০ কোটি রুপি খরচ কমানোও সম্ভব হয়েছে। শুধুমাত্র তেল আমদানির জন্য দেশটির তেল মন্ত্রণালয় ৬৭৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চিন্তা করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি ও মজুদের অভিজ্ঞতা এবং স্ট্র্যাটেজিক্যালি এগিয়ে থাকার কারণে তেলের কম দামের সুবিধা ভারত এবং চীন বেশ ভালই নিতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে।

 

এখন দেখা যাক বাংলাদেশ কি করেছে বা করছে। প্রথমেই বাংলাদেশ কিভাবে তেল আমদানি করে এই ব্যাপারে কিছু তথ্য দেয়া যাক। দেশের দৈনিক পেট্রোলিয়াম ফুয়েলের চাহিদা ১৫-২০ হাজার টনের মত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation - BPC) দুভাবে তেল কেনে - গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (G2G) চুক্তি এবং টেন্ডারের মাধ্যমে। প্রতি মাসে গড়ে ৫-৬ লাখ টন তেল আমদানি হয়; এর মধ্যে ১-১.২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল যেটা পুরোটাই কেনা হয় G2G ভিত্তিতে। পরিশোধিত তেল G2G ভিত্তিতে সাতটি দেশের আটটি কোম্পানি থেকে কেনা হয়। কোম্পানিগুলো হল - কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, পেট্রোনাস (মালয়েশিয়া), এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, পিটিটি (থাইল্যান্ড), বুমি সিয়াক পুসাকো (ইন্দোনেশিয়া), পেট্রোচাইনা, ইউনিপ্যাক এবং ভিটল (নেদারল্যান্ড)। এছাড়াও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল আমদানির জন্য ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে; যার অংশ হিসেবে এই বছর ৬০ হাজার টন ডিজেল অয়েল আমদানি হবে। আর টেন্ডারের মাধ্যমে বছরে দুইবার তেল কেনা হয়। তেলের দাম নির্ধারিত হয় সিংগাপুর-ভিত্তিক ম্যাগাজিন, প্ল্যাটস(Platts) এ প্রকাশিত রেট অনুযায়ী। সাথে আরো কিছু চার্জ বা প্রিমিয়াম যেমন ফ্রেইট কস্ট(Freight Cost), ভ্যাট, বিভিন্ন কর, ইত্যাদি যুক্ত হয়। গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট বা টেন্ডার যেভাবেই কেনা হোকনা কেন তেলের দাম একই থাকে; প্রিমিয়াম চার্জ বিডিং এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।


Platts Magazine. Source: S&P Global Platts


প্রকাশিত হিসাব মতে, দেশে ৫০-৬০ দিনের তেল মজুদ করার ক্যাপাসিটি আছে; কিন্তু প্রকৃত হিসাব কিছু কম হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তেলের মজুদ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ১ লাখ টন তেল আমদানির মাধ্যমে মোটামুটি ১০ দিনের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয় এপ্রিল মাসে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারী পাওয়ার প্রডিউসারদের কাছে মজুদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারীভাবে মজুদ বাড়ানোর জন্য পার্বতীপুর, কক্সবাজার এবং দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার (Refinery), ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে কিছু প্রকল্প নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে।

লকডাউনের কারণে পুরো বিশ্বেই তেলের চাহিদা কমেছে; বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তেলের চাহিদা কম থাকার কারণে বর্তমান ক্যাপাসিটি অলরেডি পূর্ণ হয়ে গিয়েছে যার ফলে জ্ররুরি ভিত্তিতে বেশি পরিমাণ তেল দ্রুত মজুদ করা সম্ভব হয়নি। তেলের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে তেল মজুদ করার ক্যাপাসিটি খালি হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখার বিষয় হচ্ছে বেসরকারী পাওয়ার প্রডিউসারদের সাথে চুক্তিতে যাওয়ার মাধ্যমে কত দ্রুত কম দামী তেল মজুদ করা যাচ্ছে এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো কত তাড়াতাড়ি শেষ হচ্ছে। এই সমস্ত উদ্যোগ ফলপ্রসু হতে যদি বেশি সময় চলে যায়, তাহলে তেলের কম দামের সুবিধা বড় পরিমাণে নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।


Reference:

 

1.‘ How Oil Prices Went Subzero: Explaining the COVID-19 Oil Crash

2. Negative oil price: Govt to stock extra 1.1 lakh tonnes of oil

3. পানির দরে’ জ্বালানি তেল, সুযোগ নিতে চায় বিপিসি

4. Unipec, Vitol win tender to supply Bangladesh with fuels in H1 2020

5. Bangladesh failing to cash in on cheap oil price due to lack of storage

6. India uses low crude prices to stockpile 32 million tonnes of oil

7. China has been stockpiling oil for years. Low prices give it reason to buy more

8. China’s crude reserves to reach 1.15 billion barrels in 2020

9. Crude Oil Imports by Country

10. China Doubles Rate Of Crude Stockpiling As Oil Falls Below $0

11. OPEC and Russia Are Likely to Extend Oil Production Cuts

12. The big oil turnaround: From negative prices to a bull market

13. The Future of Oil Demand Is Being Reshaped by Virus Lockdowns

14. Gulf economies to shrink 7.6pc over virus, oil slump: IMF

15. How Bangladesh can cash in on record low oil prices

16. ‘Scary,’ ‘visceral,’ ‘unprecedented’: Traders describe oil’s wild week and fall to negative prices

17. Iraq confirms commitment to reduce production in OPEC + deal