Friday, September 18, 2020

How Big is ACI

Advanced Chemical Industries Ltd. বা ACI Ltd. (এসিআই লিমিটেড) বাংলাদেশের বড় conglomerate-গুলোর মধ্যে একটি। হেলথকেয়ার, কনজ্যুমার গুডস ও ইলেকট্রনিক্স, কৃষি এবং রিটেইল এই চারটি খাতে মোট ৩৯ ধরণের পণ্য বিক্রি করে এসিআই। ১৫ বিলিয়ন টাকা মার্কেট ভ্যালু এবং ৬৩ বিলিয়ন টাকা রেভিনিউ জেনারেটিং conglomerate-টির সাবসিডিয়ারি কোম্পানি আছে ১৪টি, জয়েন্ট ভেঞ্চার এবং এসোসিয়েট কোম্পানি আছে ৪টি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট আছে ১২টি। এতগুলো ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও আগের বছরগুলোতে এসিআইয়ের প্রফিট জেনারেশনে ধারাবাহিকতার অভাব ছিলো। তার উপর গত বছর অর্থাৎ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এসিআই প্রায় ৯০ কোটি টাকা লোকসান করে। এসিআইয়ের ইতিহাস, বিভিন্ন বিজনেস ইউনিট এবং কোম্পানিটির রেভিনিউ জেনারেশন ও প্রফিটেবিলিটির অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবো আজকের ভিডিওতে

History

১৯২৬ সালে চারটি ব্রিটিশ কেমিক্যাল কোম্পানির মার্জারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় Imperial Chemical Industries বা ICIকোম্পানিগুলো হল - Brunner Mond, Nobel Explosives, The United Alkali Company এবং British Dyestuffs Corporation ইম্পেরিয়াল কেমিকেলের প্রোডাক্টের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, বিস্ফোরক, কীটনাশক, পেইন্ট এবং রেজিন (রজন)। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হিসেবে আরো বেশ কয়েকটি দেশে অপারেট করছিল ICIতারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানিটি ICI (India) Ltd. নামের একটি সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে ব্যবসা করা শুরু করে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর ICI (India) এর করাচি অফিসের নাম পরিবর্তন করে ICI (Pakistan) Ltd. রাখা হয়। পরে ১৯৬৮ সালে কোম্পানিটি স্থান পরিবর্তন করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর এই ICI (Pakistan)-ই ১৯৭৩ সালে ICI Bangladesh Manufactures Ltd. নামে বাংলাদেশে অপারেশন শুরু করে। ১৯৭৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত হয় কোম্পানিটি। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ৫ই মে মূল কোম্পানি ICI Plc. তার ৭০% শেয়ার লোকাল শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বিক্রি করে। আর এই ডাইভেস্টমেন্টের পরেই ICI Bangladesh, ACI নামে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে।

Business Expansion

মোট চারটি Strategic Business Unit (SBU)-এ ব্যবসা করছে এসিআই। সেগুলো হল - ১) Health Care ২) Consumer Brands ৩) Agribusinesses এবং ৪) Retail Chain। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রধানত ফার্মাসিউটিক্যালস ও পেস্ট কন্ট্রোল পণ্যের ব্যবসাতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে একের পর এক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন সেগমেন্টে প্রবেশ করে এসিআই। 

এসিআই দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে ব্যবসা করছে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসিআইয়ের মার্কেট শেয়ার ৪%। এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি therapeutic class এ ২৫০টিরও বেশি মলিকিউল বাজারে এনেছে এসিআই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৩টি নতুন মলিকিউল বাজারে আনে কোম্পানিটি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ৪টি মহাদেশের ৩০টি দেশে ঔষুধ রপ্তানিও করছে এসিআই। এছাড়াও আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকাতে ১৫টিরও বেশি দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য রেগুলেটরী কার্যক্রম চলছে।

পেস্ট এবং নন-পেস্ট কন্ট্রোল এই দুই ধরণের প্রোডাক্টের মাধ্যমে হোম কেয়ার সেগমেন্টে উপস্থিতি রয়েছে এসিআইয়ের। সেই সঙ্গে আমেরিকান কনজিউমার ব্র্যান্ড SC Johnson এর ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার হয়ে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে এসিআই। এরোসল মার্কেটে ACI Aerosol কাস্টমারদের নাম্বার ওয়ান চয়েস। Neilson এর তথ্যমতে, এরোসল মার্কেটে ৯৪% এর বেশি মার্কেট শেয়ার ACI Aerosol এর। মসকুইটো কয়েল মার্কেটে এসিআই কয়েলের শেয়ার প্রায় ৮%। এই মার্কেটে অন্য নন-ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্টের আধিক্যের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসিআইয়ের মার্কেট শেয়ার কমেছে। নন-পেস্ট কন্ট্রোল প্রোডাক্টের মধ্যে Angelic Air Freshner এবং টয়লেট ক্লিনার হিসেবে Vanish ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত করেছে এসিআই।

চার দশকের বেশি সময় ধরে স্যাভলন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আছে। মূল কোম্পানি ইম্পেরিয়াল কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯২ সাল থেকে এসিআইয়ের অধীনে চলে আসে ব্র্যান্ডটি। শুরুতে এই পণ্যের ব্র্যান্ডের তালিকায় শুধুমাত্র এন্টিসেপ্টিক লিকুইড ও ক্রিম থাকলেও ১৯৯৮ সালে হ্যান্ডওয়াশ অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে এসিআইয়ের টয়লেট্রিজ বিজনেসের অধীনে স্যাভলনের সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, এবং ওয়াইপ্স সহ আরো বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়। এন্টিসেপটিক ইন্ডাস্ট্রিতে স্যাভলনের এন্টিসেপটিক পণ্যের মার্কেট শেয়ার ৮৪% এর বেশি। করোনাভাইরাসের প্রকোপে এসিআইয়ের টয়লেট্রিজ বিজনেসে স্পেশালি সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি পণ্য বিক্রি অনেকগুণে বেড়েছে।

২০০০ সালে Creative Communication Ltd. নামের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্স ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করে এসিআই। মিডিয়া প্ল্যানিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ আরো বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে Creative Communication। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ৭.৫ কোটি টাকা এবং প্রফিট ছিল ১ কোটি টাকা।

২০০৩ সালে এসিআই ও টাটা গ্লোবাল বেভারেজ ওভারসীজ হোল্ডিংস লিমিটেড এর জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি Tetley ACI Bangladesh-এর মাধ্যমে চা উৎপাদন, প্যাকেজিং ও বিক্রি শুরু করে এসিআই। এই কোম্পানির দুটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড টাটা টি, ও টেটলি।

২০০৪ সালে ACI Salt Ltd. - এর মাধ্যমে এডিবল সল্ট মার্কেটে ব্যবসা শুরু করে এসিআই। বিগত দশকে ৮ বার সল্ট মার্কেটে শীর্ষ ব্র্যান্ডের জায়গা ধরে রেখেছে এসিআই সল্ট। বাজারে BSTI এর অনুমোদনহীন, বাইরে থেকে আমদানি করা নিম্নমানের লবণ বিক্রেতার আধিক্যের কারণে এসিআই, মোল্লা, কনফিডেন্সসহ দেশীয় কোম্পানিগুলো বেশ কয়েকবছর ধরে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্যে ব্যবসা করে আসছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যেও এসিআই সল্ট গুণগতমানের দিক থেকে এখনো সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ১৯০ কোটি টাকা এবং প্রফিট ছিল ৯ কোটি টাকা। 

একই বছর (২০০৪ সালে) এসিআই ভারতের গোদরেজ এগ্রোভেট-এর সাথে আরেকটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি, ACI Godrej Agrovet Pvt. Ltd প্রতিষ্ঠা করে যার মাধ্যমে কোম্পানিটি সব ধরণের এনিমেল ফিড (পোলট্রি, একুয়া, ক্যাটল ফিড) ও একদিনের মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রয়ের সাথে সংযুক্ত হয়।

এসিআই সিড বিজনেস শুরু করে ২০০৬ সালে। Bangladesh Rural Development Academy, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Agricultural University (BSMRAU), ও Bangladesh Agricultural University-তে এসিআইয়ের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টেশন রয়েছে। এসিআই সীড USAID, IRRI, IFC, KATALYST সহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। নতুন প্রজাতির বোরো চাল, হাইব্রিড চাল, ভুট্টা ইত্যাদি বাজারে আনার মাধ্যমে সমগ্র সীড মার্কেটের ৭০% এর বেশি শেয়ার দখল করতে সক্ষম হয়েছে এসিআই।

২০০৮ সাল এসিআইয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর বেশ কিছু নতুন ব্যবসার সাথে যুক্ত হয় এসিআই। এই বছর সারফেস কেয়ার ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করে এসিআই যেখানে বর্তমানে গ্লাস, ফ্লোর ক্লিনার হিসেবে Shinex ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারে রয়েছে। Female Hygiene ক্যাটাগরিতে Savlon Freedom Sanitary Napkin launch করা হয় এই বছর। বর্তমানে স্যানিটারি ন্যাপকিন ইন্ডাস্ট্রিতে এর মার্কেট শেয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়াও গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ এ Female Hygiene ও Baby Care সেগমেন্টে ৯৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এসিআই।

২০০৮ সালেই ফুড বিজনেসে প্রবেশ করে এসিআই। ACI Pure Flour Ltd (ACFL) নামের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে PURE ব্র্যান্ডের আটা, ময়দা, সুজি, ব্রাউন আটা, মাল্টিগ্রেইন আটা ইত্যাদি বাজারজাত করা হয়। এর মধ্যেই ৩০% এর বেশি মার্কেট শেয়ার নিয়ে মার্কেটে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে ACI Pure Flour Ltd। অন্যদিকে ACI Foods Ltd  নামের আরেকটি সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে PURE এবং FUN ব্র্যান্ডের অধীনে বেসিক স্পাইস, মিক্সড স্পাইস, ন্যুডলস, এরোমেটিক রাইস, কেক, চানাচুর, ক্যান্ডি, চাটনি ইত্যাদি পণ্য মার্কেটে এনেছে এসিআই।

২০০৮ সালে সুপারস্টোর হিসেবে এসিআই লজিস্টিক্সের অধীনে যাত্রা শুরু করে স্বপ্ন। বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলো যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ১৩০টি আউটলেটের মাধ্যমে ব্যবসা করছে যার মধ্যে ৬১টি তার নিজের, এবং বাকিগুলো ফ্র্যাঞ্জাইজিস্টোর। রিটেল চেইন মার্কেটের প্রায় ৫০% মার্কেট শেয়ার নিয়ে শীর্ষে আছে স্বপ্ন। ২০১৭ সালে স্বপ্ন shwapno.com এর মাধ্যমে ই-কমার্স মার্কেটেও প্রবেশ করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্র সম্প্রসারণে GLOBAL G.A.P এর সাথে কাজ করে চলেছে এসিআই লজিস্টিক্স । 

সুপারস্টোর হিসেবে আগোরা, মীনাবাজারের পরে আসলেও স্বপ্ন খুব দ্রুত মার্কেট শেয়ার ধরতে সক্ষম হয়। তবে শুরুতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন  হতে হয় স্বপ্নকে। অন্যান্য সুপার শপগুলোর মত শুরুতে স্বপ্নেরও টার্গেট ছিল দেশের এফ্লুয়েন্ট ক্লাসের লোকজন। সেই কারণে শুরু থেকেই আগোরা ও মীনা বাজারের কাছে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় স্বপ্ন। সেই সাথে হাইজিন মেইনটেইনেন্স, বিভিন্ন পণ্যের সহজলভ্যতার ব্যাপারেও ক্রেতাদের বেশ অভিযোগ ছিল। এসব কারণে ঐ সময় স্বপ্নের রিটেইল আউটলেটের সংখ্যাও কমতে থাকে। 

পরবর্তীতে বেশ কিছু সময়েপোযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় স্বপ্ন। পণ্যের দাম কমানো, প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও বাড়ানো সহ সব শ্রেণীর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার টার্গেট নিয়ে আগাতে থাকে সুপারশপটি। এছাড়াও পরবর্তীতে Seed to Shelf নীতির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সরাসরি এগ্রোলিংক্স ও লজিস্টিক্স একসাথে কাজ শুরু করে। সুপার শপ চেইন মার্কেটের প্রায় অধের্ক দখল করে রাখলেও প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কোন বছরই লাভের মুখ দেখেনি স্বপ্ন। এজন্য কোম্পানির এড ও মার্কেটিং বিভাগে বেশি খরচ করা, বড় রকমের লোন নেয়ার কারণে লোন বা ইন্টরেস্ট এক্সপেন্স বেশি হওয়াকে কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে। ভবিষ্যতে লোনের মাধ্যমে ফাইনান্সিংয়ের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ইক্যুইটি ফাইনান্সিংয়ের উপর জোর দেয়ার কথা চিন্তা করছে কোম্পানিটি।

Surface Care, Hygiene, Supermarket এবং Food ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের বছরেই ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেট ও প্যাকেজিং বিজনেসে প্রবেশ করে এসিআই। এই বছরই এসিআই বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড Panasonic-এর টিভি, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি পণ্যের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এই সেগমেন্টে নিজেদের ব্র্যান্ড "Sparkle" এর এয়ার কন্ডিশনার বাজারজাত করা হয়। এই বছরের শেষ দিকে Premiaflex Plastics Ltd. নামের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং, কনজুমার প্লাস্টিকসহ অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণ শুরু করে এসিআই।

২০১২ সালে এডিবল অয়েল মার্কেটে প্রবেশ করে এসিআই। ঐ বছরই ACI Nutrilife Rice Bran Oil বাজারে আসে। ২৫% এর বেশী মার্কেট শেয়ার অর্জন করে রাইস ব্র্যান অয়েল মার্কেটে ভাল অবস্থান আছে নিউট্রিলাইফের। এক্ষেত্রে বলে রাখি, রাইস ব্র্যান অয়েল, ধানের বাইরের স্তর থেকে সংগ্রহীত, উচ্চ তাপমাত্রার রান্না এবং ডিপ-ফ্রাইংয়ের জন্য উপযোগী তেল যাতে ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন-ই এর আধিক্য রয়েছে। ২০১৬ সালে নিজেদের আরেকটি ব্র্যান্ড PURE-এর সয়াবিন অয়েল বাজারে আনে এসিআই। এছাড়াও আমদানিকৃত ব্র্যান্ড Le Blanc Premium Sunflower Oil এর মাধ্যমেও ব্যবসা করছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ACI Edible Oils Ltd.। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ৭৭ কোটি টাকা এবং প্রফিট ছিল ১ কোটি টাকা।

২০১৩ সালে Neem Laboratories Pvt. Ltd. অ্যাকুয়ার করার মাধ্যমে হারবাল পণ্য বিক্রি শুরু করে এসিআই। সেই সাথে দেশীয় পেইন্ট মার্কেটে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। পেইন্ট বিজনেস শুরু করার পর ডেকোরেটিভ পেইন্ট, প্রোটেক্টিভ, মেরিন ও পাউডার কোটিং, ইত্যাদি সেগমেন্টে বিশ্বখ্যাত পেইন্ট ও কোটিং কোম্পানি Akzonobel এর বিভিন্ন ব্র্যান্ড যেমন International, Dulux, Interpon, Duwel-এর পণ্য বাজারে এনেছে এসিআই। তবে মোট বিদেশী-দেশী আরো ৪৪টি প্লেয়ার মার্কেটে থাকার কারণে বাংলাদেশে পেইন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কম মার্কেট শেয়ার এসিআই পেইন্টস-এর। 

ঐ বছরের শুরুর দিকে US সহ অন্যান্য রেগুলেটেড ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটে ব্যবসা করার জন্য ACI HealthCare Ltd. নামের একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। নারায়ণগঞ্জে কোম্পানিটির একটি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানিটি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় করলেও ৩৫ কোটি টাকা লসের মুখ দেখেছে।

২০১৪ সালে Men's grooming এবং ২০১৫ সালে IT এবং মোবাইল ফোন মার্কেটে প্রবেশ করে এসিআই। যদিও এসব বিজনেসে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই কোম্পানিটি। 

২০১৬ সালে জাপানীজ ব্র্যান্ড Yamaha-এর মোটরসাইকেলের ডিলারশীপ অর্জন করার মাধ্যমে বাইক বিজনেস শুরু করে এসিআইয়ের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ACI Motors। ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বাইক বিক্রিতে এসিআইয়ের আয় সবচেয়ে বেশি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এই সেগমেন্টের বাইক বিক্রিতে ৩৩% প্রবৃদ্ধি এসেছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এন্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম সম্বলিত বাইক বাজারে আনে এসিআই। ২০১৯ সালের মে মাসে এসিআই মটরস লোয়ার সেগমেন্ট অর্থাৎ ১২৫ সিসি এবং তার নিচের সেগমেন্টগুলোয় Original Equipment Manufacturer (OEM) হিসেবে প্রবেশ করার ঘোষণা দেয় এবং Completely Built Unit বা CBU বাইক বিক্রির পাশাপাশি Completely Knocked Down (CKD) বাইক বিক্রয় শুরু করে। এই উদ্দেশ্যে ACI Motors, Yamaha Motors Company ও Yamaha Motor India Sales এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টও প্রতিষ্ঠা করেছে। 

গত ৮ বছরের বেশি সময় ধরে লোকাল বাইক ম্যানুফাকচারাররা ভ্যাট, শুল্ক, ও ট্যাক্স রেটের ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইয়ামাহার মত বিদেশী বাইক ম্যানুফাকচারাররা বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি নির্মাণের মাধ্যমে বাইক ম্যানুফাকচারিংয়ে উৎসাহিত হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বেশিদামের হাইয়ার সেগমেন্টে ব্যবসা করলেও ১২৫ সিসি ও তার নিচের সেগমেন্টে প্রবেশ করছে এসিআই মটরস। ১২৫ সিসি সেগমেন্টে ACI Motors বাজারে এনেছে Yamaha Saluto Disc Brake মূল্য ১২০,০০০ টাকা। এত কম দামে ইয়ামাহার বাইক এর আগে বাংলাদেশে আসেনি। যেটি ইয়াং জেনারেশনের বাইকপ্রেমীদের একটি সুখবর।

ACI Motors এর উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডের বাইক বললে FAZER FI, YZF R15 and FZS FI এর কথা বলতে হয়। এছাড়াও ঢাকা বাইক কার্নিভাল, বাইক ফিয়েস্টা ও সবচেয়ে বড় বাইক লোগো বানিয়ে গিনেজ বুকে নাম উঠানোসহ ইত্যাদি ইভেন্টের মাধ্যমে দেশীয় বাইক মার্কেটে বিশেষ করে ১৫০ সিসি এবং হাইয়ার সেগমেন্টে বড় মার্কেট শেয়ার অর্জনে এগিয়ে আছে এসিআই। 

গত তিন বছরে ACI Motors ১৯% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই কোম্পানির অধীনে আরেকটি Strategic Business Unit হচ্ছে - Farm Mechanization। এই সেগমেন্টে "সোনালিকা" ব্র্যান্ডের ট্রাক্টর প্রধান পণ্য। এছাড়াও এই সেগমেন্টের প্রোডাক্ট পোর্টফোলিওতে ডিজেল ইঞ্জিন, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার, ওয়াটার পাম্প, মিনি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ইত্যাদি আছে। 

Agri-Machineries ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসিআই। ACI Agrolinks Ltd. নামের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তৈরি করা,  এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি মার্কেটে আনার মাধ্যমে ফরোয়ার্ড ফুড মার্কেট পয়েন্ট তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে এফিশিয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সেইফ ফুড সেক্টরে প্রবেশ করাই এগ্রোলিংকস-এর লক্ষ্য। ইতোমধ্যেই মোহাম্মদপুরে "Fisharbour" নামে একটি ফরোয়ার্ড মার্কেট তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে হাইজেনিক মাছ বিক্রি হবে। এছাড়া এগ্রোলিংকসের মাধ্যমে চীন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য কৃষক ও প্রান্তিক ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ ও তৈরি করা হচ্ছে।

Animal Health সেগমেন্টে Poultry, Cattle, Vaccine ও Aqua ইত্যাদি পণ্যের ব্যবসা করছে এসিআই। পশু স্বাস্থ্যের জন্য দরকারী ভ্যাক্সিনের কাঁচামাল আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত বছর এই সেগমেন্টে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩৫%। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে একুয়া সেগমেন্টের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪%।

ক্রপ কেয়ার সেগমেন্টেও উপস্থিতি রয়েছে এসিআইয়ের। এই সেগমেন্টে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১০% এর অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এসিআই। কিন্তু বিগত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৮-২০১৯ এ এই সেগমেন্টে আয় কমেছে ৭%। ফসলের কম দামের কারণে দেশীয় সার শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার প্রভাব পড়েছে এসিআইয়ের উপর। তবে এই সেগমেন্টের "রত্ন" ব্র্যান্ডের সার বাজারজাত করে সারের মার্কেটের ২০% শেয়ার ধরতে সক্ষম হয়েছে এসিআই। এছাড়াও বৈচিত্র্য আনতে এসিআই রেডি মিক্স সয়েল বাজারে এনেছে কোম্পানিটি।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেগমেন্টে বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড কোলগেট-এর পণ্য বিক্রিতে প্রায় প্রতি বছরই ১১% এর বেশি প্রবৃদ্ধি থাকে। শিকাগোভিত্তিক কোম্পানি Merisant এর Equal Canderel ব্র্যান্ডের সুইটনারের বিক্রিও বেশ ভাল। বৈচিত্র্য আনতে ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ নতুন উপাদানসমৃদ্ধ Equal ব্র্যান্ডের আরেকটি সুইটনার Stevia বাজারে আনে এসিআইএকই বছর প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে 'ACI Sandal Soap' বাজারে আনে কোম্পানিটি। এসিআই ও ডাবর ইন্ডিয়ার জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি Asian Consumer Care এর মাধ্যমে ডাবরের বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে বাজারজাত করছে এসিআই। এছাড়াও Laser ব্র্যান্ডের শেভিং পণ্যের মাধ্যমে ম্যানস গ্রুমিং সেগমেন্টে উপস্থিতি ধরে রেখেছে কোম্পানিটি

Subsidiaries and Brief Financials

এখন এক নজরে দেখে নেয়া যাক এসিআইয়ের সাবসিডিয়ারিগুলোকে -

Subsidiary Ownership
ACI Agrolinks 90%
ACI Biotech 80%
ACI Chemicals 75%
ACI Edible Oils 85%
ACI Foods 95%
ACI Formulations 54%
ACI HealthCare 93%
ACI Logistics 76%
ACI Motors 67%
ACI Pure Flour 95%
ACI Salt 78%
Creative Communication 60%
Infolytx Bangladesh 60%
Premiaflex Plastics 87%


প্রায় প্রতিবছরই নতুন কোন না কোন বিজনেসে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এসিআই এর রেভিনিউ বাড়লেও ঐসব বিজনেসের রিস্ক এবং ভলাটিলিটি এফেক্ট করেছে কোম্পানির প্রফিটেবিলিটিকে। এর ফলে কোন বছর নীট প্রফিটে বড় গ্রোথ থাকলেও কোন বছরে লসেরও সম্মুখীন হয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়াও এসিআইয়ের সব সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা সব বিজনেস সমান লাভজনক না হওয়ায় মূল কোম্পানির প্রফিটে ধারাবাহিকতার বেশ অভাব ছিল। অন্যদিকে অনেক বেশি ব্যাঙ্ক লোননির্ভর হওয়ার কারণে লোনের ইন্টরেস্ট পরিশোধ করতে গিয়ে প্রফিটও বেশ কমে গেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। আমাদের পরবর্তী ভিডিওতে এসিআইয়ের সম্মিলিত এবং প্রতিটি সাবসিডিয়ারির প্রফিটেবিলিটি এবং এসিআইয়ের লসের কারণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

Sunday, September 13, 2020

What Happened to Doel?

"দোয়েল" (Doel) ল্যাপটপের কথা কি মনে আছে? এটি ছিলো বাংলাদেশে এসেম্বল করা প্রথম ল্যাপটপ। টেলিফোন শিল্প সংস্থা (TSS) ২০১১ জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে একটি প্রজেক্টের আওতায় ঐ বছরের অক্টোবর মাসে বাজারে আনে দোয়েল ল্যাপটপ। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ৪টি ভিন্ন মডেলের ল্যাপটপ সেই সময় বাজারে এনেছিল সংস্থাটি। ল্যাপটপটির সর্বনিম্ন মূল্য ছিলো ১০,০০০ টাকা বা ১৩০ ডলার বা ৮৩ পাউন্ড; বাকি মডেলগুলোর মূল্য ছিল যথাক্রমে ১৩৫০০, ২২০০০ ও ২৬০০০ টাকা। 

সেই সময়টায় মানে ২০১০-১১ সালের দিকে এশিয়ার দেশগুলো ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেটে নিজেদের বানানো পণ্য আনার ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছিলো। ইন্টেলের প্রসেসরের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন কম্পিউটার প্রসেসর বানানোর উদ্যোগ নেয়। ভারতও নিজেদের তৈরি ট্যাবলেট মার্কেটে আনার চেষ্টা করেছিলো। বাংলাদেশও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কম দামের ল্যাপটপ দেয়ার লক্ষ্যে লোকালি এসেম্বলকৃত ল্যাপটপ বাজারে আনে। TSS, ঢাকাভিত্তিক 2M Corporation এবং মালয়েশিয়ান Thin Film Transistor (TFT) Technology সম্মিলিতভাবে এই প্রজেক্টের দায়িত্বে ছিলো। শুরুতে মাত্র ১০% পার্টস বাংলাদেশে তৈরি হলেও ধীরে ধীরে ৬০% পার্টস বাংলাদেশে প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

সবচেয়ে কম মূল্যের মডেলটির নাম ছিল Doel 2102; 800MHz VIA 8650 প্রসেসর; 512MB র‍্যাম; 10.1" 1024x600 ডিসপ্লে, 16GB ফ্ল্যাশ মেমোরি। ল্যাপটপটির ইন্টারনাল স্টোরেজ ছিলোনা, কিন্তু একটি এসডি কার্ডের স্লট ছিল। পরের মডেলটি অর্থাৎ ১৩,৫০০ টাকা দামের মডেলটির নাম ছিলো Doel 0703, যার স্পেসিফিকেশন কিছুটা বেটার ছিলো; বেটার স্ক্রিন, Atom N456 প্রসেসর, 1024MB র‍্যাম, 250GB হার্ডডিস্ক এবং তুলনামূলক বেটার ওয়েবক্যাম। এছাড়াও অপারেটিং সিস্টেম ছিলো লিনাক্স, আবার অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এডজাস্ট করার সুবিধাও ছিলো।

পতনের কারণসমূহ

২০১১ সালের বাজারে আনার পর ২ বছর যেতে না যেতেই প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে যায় 'দোয়েল' এর।  বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়াকে দায়ী করা হয়। কনফিগারেশন ভাল না হওয়ার কারণে এই ল্যাপটপের চাহিদাও ছিল অনেক কম। ২০১৩ সালে প্রকাশিত TSS এর বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই বছরে মাত্র ২৮,৬২২টি ল্যাপটপ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে TSS। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-ই নেয় দুই-তৃতীয়াংশ বা ১৭,৮১৫টি। 

সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে এই প্রজেক্টের অন্য দুই পার্টনার, 2M Corp ও TFT -এর কাছ থেকে। দোয়েল ল্যাপটপ বাজারে আনার এক বছর যেতে না যেতে তারা এই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ায়। এই প্রজেক্ট ভেঞ্চারের ৭৫% মালিকানা ছিলো তাদের কাছে। যার দরুন এই প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় TSS-কে, ফলশ্রুতিতে এসেম্বল করা ল্যাপটপের উল্লেখযোগ্য অংশ অবিক্রীত থেকে যায়। ২০১৩ সালের TSS এর বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দুই বছরে ২৮,০০০ ল্যাপটপ বিক্রির বিপরীতে ৪২,১৯৫টি ল্যাপটপ এসেম্বল করার জন্য পার্টস কিনা হয়, তার মধ্যে এসেম্বল করা হয় ৩৭,০৫৯টি।

Source: Dhaka Tribune

দাম কম রাখতে গিয়ে দোয়েল ল্যাপটপের মানের দিক থেকে কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে বলে মনে করেন কনজিউমাররা। ল্যাপটপটির বেশিরভাগ পার্টস-ই টেকসই ছিলোনা; পারফর্মেন্সও বেশ খারাপ পাচ্ছিলো ব্যবহারকারীরা। তাছাড়া ল্যাপটপটির জন্য কোন বিক্রয়-পরবর্তী সেবাও দেয়া হতনা। এসমস্ত বিষয় ল্যাপটপটির কম চাহিদার কারণ বলে মনে করেন অনেকে। ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ৫০ জন দোয়েল ল্যাপটপ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা হয়। এতে দেখা যায় কিছু পার্টস ছাড়া দোয়েল ল্যাপটপের প্রায় সব পার্টসেই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবহারকারীরা। ল্যাপটপের ব্যাটারীর ব্যাপারে ৮৩% ব্যবহারকারীর অভিযোগ ছিলো, র‍্যামের ব্যাপারে ৩৫% এবং প্রসেসরের ব্যাপারে অভিযোগ ছিলো প্রায় ১৮% ব্যবহারকারীর।

                                                      Problem faced by DOEL laptop user                                           Source: Hoque, Fauji & Balo;  Enactment of a Local Laptop Brand: A Study on DOEL Laptop

অবশেষে TSS ২০১৬ সালে দোয়েল ল্যাপটপের প্রজেক্ট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় TSS। TSS এর বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৬-১৭ তে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মোট ১১টি মডেলের ৬৩,২৪৫টি দোয়েল ল্যাপটপ এসেম্বল করা হয় এবং ৫৮,৭৫০টি বিক্রী হয়। 

২০১৯ সালের শেষ দিকে নতুনভাবে দোয়েল ল্যাপটপের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় TSS। নতুন ল্যাপটপগুলির কয়েকটিতে দাম কিছুটা বেশি রেখে ভাল কনফিগারেশনের দিকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলে TSS।  এছাড়াও দেশব্যাপী দোয়েল ল্যাপটপের ২০টি শো-রুম এবং সার্ভিস সেন্টার খোলার কথা বলা হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় Doel Advanced 1612-i5 নামের একটি ল্যাপটপ বাজারে আনার কথা আছে যার মূল্য ৪২,০০০ টাকা।

Source: www.doel.com.bd


প্রায়োরিটি বেসিসে সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বসাধারণের কাছে কম মূল্যে ভাল দামের ল্যাপটপ সরবরাহ করতে পারলে এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে পারলে দোয়েল ল্যাপটপ ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে ভাল অবস্থান নিতে পারবে ।
 
 
Reference:
 
 
 
 




Monday, September 7, 2020

Jio Investment Mania - কেন বিশ্বের টেক জায়ান্টগুলো ইনভেস্ট করছে Jio তে

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ক্ষুদ্র ও মাঝারী আকারের ব্যবসায়ীদের যেখানে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেখানে টেলিকম ও ই-কমার্সসহ কনজাম্পশন-বেইজড প্রোডাক্ট সরবরাহকারী বড় বড় কোম্পানীর মালিকরা বহুগুণে তাদের ব্যবসা বাড়িয়ে নিয়েছেন। Reliance Industries Ltd. (RIL) এর মালিক মিঃ মুকেশ আম্বানী তাদের মধ্যেই একজন। এই করোনাকালে তিনি এসে গিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনীর এলিট লিস্টে। গত ২২শে এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৫ই জুলাই রিলায়েন্সের এজিএম পর্যন্ত সর্বমোট ১৩টি কোম্পানি রিলায়েন্সের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, Jio Platforms Ltd. (JPL) - এ ইনভেস্ট করার ঘোষণা দিয়েছে। এজিএমের বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে সপ্তাহ প্রতি ১টির বেশি ডিল পকেটে পুরেছেন মিঃ আম্বানী। কেন হঠাৎ করে বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলো ইনভেস্ট করছে Jio Platforms এ? এইসব নিয়েই আলোচনা করবো আজকের লেখায়।

History of Jio Platforms Ltd. (JPL)

Jio Platforms Ltd. হচ্ছে রিলায়েন্সের ডিজিটাল বিজনেস সাবসিডিয়ারি। ২০১৯ এর অক্টোবরে রিলায়েন্স তাদের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের অংশ হিসেবে Jio Platforms প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন কারণে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডিয়ারি Reliance Jio আলোচনায় থাকলেও অন্যান্য ডিজিটাল বিজনেসগুলো বেশ আড়ালেই ছিল। অবশেষে গতবছর রিলায়েন্স, তার টেলিকম বিজনেস ও অন্যান্য ডিজিটাল বিজনেসগুলো একই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করে আলাদা ডিজিটাল বিজনেস সাবসিডিয়ারি বানিয়ে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Companies under Jio Platforms

Source: RIL Annual Report FY2020

  1. Reliance Jio Infocomm Ltd. ছোটভাই অনিল আম্বানির সাথে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কলহের সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নন-কম্পিট এগ্রিমেন্টের কারণে মুকেশ আম্বানির এনার্জি ও টেলিকমসহ আরো কিছু ব্যবসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। আবার অনিল আম্বানির এনার্জি ও টেলিকম ব্যবসার অবস্থা ছিলো নাজুক। সুযোগটা হারাতে চাননি মুকেশ আম্বানি। ২০১০ সালে ভারতে Broadband Wireless Access (BWA) এর ফোরজি লাইসেন্সের নিলামের কিছুদিন আগে ছোটভাইয়ের ডুবতে বসা এনার্জি বিজনেস বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তিনি। বিনিময়ে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নন-কম্পিট এগ্রিমেন্টটি রদ করান তিনি। যার ফলে টেলিকম ব্যবসায় প্রবেশের আর কোন বাধা ছিলোনা তার। ফোরজি লাইসেন্সের নিলামে Infotel Broadband Services Ltd. (IBSL) নামের এক অখ্যাত ব্রডব্যান্ড কোম্পানি ১২,৮৪৮ কোটি রুপি বা ২.৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্পেক্ট্রাম কিনে নেয়। নিলাম শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেক পরে কোম্পানিটির ৯৫% শেয়ার কিনে নেন মুকেশ আম্বানি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে Infotel Broadband এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Reliance Jio Infocomm Ltd. বা Reliance Jio (RJio)। পরে ২০১৫ সালে স্বল্প আকারে এবং ২০১৬ সালে পুরোদমে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডিয়ারি হিসাবে ব্যবসা শুরু করে Jio।
  2. MyJio হচ্ছে Jio'র সুপার অ্যাপ, অর্থাৎ গ্রাহক অনেকগুলো সার্ভিস একসাথে এই অ্যাপে পায়। বেসিক টেলিকম সার্ভিস যেমন ভয়েস ও ডাটা প্ল্যান ঠিক করা, রিচার্জ করা, বিল পেমেন্ট তো আছেই, এসবের সাথে গান শুনা, মুভি, টিভি শো দেখা এসব সুবিধাও পাওয়া যায় এই সুপার অ্যাপে। ২০১৬ সালে প্লে স্টোরে এসে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডাউনলোড অতিক্রম করে MyJio অ্যাপ। এই বছরের শুরুতে, জানুয়ারির ১৪ তারিখে, MyJio অ্যাপে 'Jio Mini Apps" নামে একটি ফিচার আনা হয় যেখানে Jio Platforms এর আরো কিছু সার্ভিস যেমন - JioCloud (Cloud Service), JioTV (Streaming Service), JioCinema এবং JioEngage (Game Playing Platform), ইত্যাদি সংযুক্ত করা হয়। একই দিনে MyJio অ্যাপে UPI payment চালু করার মাধ্যমে ভারতে প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে এই পেমেন্ট সার্ভিস দেয়া শুরু করে Jio। UPI বা Unified Payment Interface এর মাধ্যমে মোবাইল প্ল্যাটফর্মে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টার-ব্যাঙ্ক ট্রান্সেকশন করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, UPI payment provider হিসেবে ট্রাকশন পেতে Google Pay, Paytm, Phone Pe, ইত্যাদি টপ প্লেয়ারদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে Jio কে।
  3. JioTV এবং JioTV+ এর মাধ্যমে স্ট্রিমিং সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছে রিলায়েন্স। JioTV-এর মাধ্যমে Jio-র কাস্টমাররা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও প্রোগ্রামসমূহ স্মার্ট ফোন ও ট্যাবলেটে দেখতে পারে।
  4. JioNews হচ্ছে নিউজ চ্যানেল, ৮০০টিরও বেশি ম্যাগাজিন ও ৩০০টির বেশি নিউজপেপার সম্বলিত Jio Platforms এর একটি  অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন।
  5. JioCloud হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ, ডাটা ব্যাকআপ এবং ফাইল ট্রান্সফার সার্ভিস সম্বলিত Jio Platforms এর অ্যাপ্লিকেশন।
  6. JioCall দিয়ে টুজি, ত্রি-জি এবং ফোরজি-এলটিই সাপোর্টেড স্মার্টফোনে ফোরজি-এইচডি ভয়েস কল এবং ভিডিও কল করা যায়। এছাড়াও Rich Communication Services (RCS) সুবিধার মাধ্যমে কলের মধ্যে থাকা অবস্থায় লোকেশন শেয়ারিং, ডুডল এড করা, গ্রুপ চ্যাট করা, ইত্যাদিও করা যায়।
  7. JioChat এর মাধ্যমে ডাটা কলিং, ভিডিও কলিং ও চ্যাটিং ফ্যাসিলিটি দিয়ে আসছে Jio। এছাড়াও JioMeet এর মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং ও ওয়েব কনফারেন্সিং সার্ভিস দিচ্ছে Jio।
  8. এসব ছাড়াও JioHealthHub (হেলথকেয়ার সার্ভিস অ্যাপ), JioSecurity (মোবাইল সিকিউরিটি সার্ভিস), JioSwitch (ফাইল ট্রান্সফার ও শেয়ারিং অ্যাপ), JioBrowser, ইত্যাদি বিভিন্ন সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে স্ট্রং ব্র্যান্ড পজিশনিং করতে সক্ষম হয়েছে Jio।
  9. JioMoney হচ্ছে Jio-র ডিজিটাল ওয়ালেট যা দিয়ে ফোনে অর্থ জমা রাখা এবং তা দিয়ে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে পেমেন্ট করার সুবিধা পাওয়া যায়।
  10. JioMart এর মাধ্যমে এই বছর ই-কমার্স বিজনেসে প্রবেশ করলো রিলায়েন্স। ক্ষুদ্র ও মাঝারী ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এই শপিং পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে WhatsApp Business App এ সংযুক্ত থেকে অর্ডার গ্রহণ করবে ও পণ্য বিক্রয় করবে। আর ক্রেতারা WhatsApp-এর মাধ্যমে পণ্য অর্ডার দিতে পারবে। আরেক ই-কমার্স জায়ান্ট Amazon ইতোমধ্যে JioMart এ বিনিয়োগের ইংগিত দিয়েছে।
  11. উল্লেখযোগ্য Merger & Acquisitions:
    • JioSaavn (Jio-Saavn): অনলাইন মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম
    • Jio-Embibe: ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম
    • Jio-Radisys: 5G ও IoT-ভিত্তিক সার্ভিসের জন্য সফটওয়্যার সলিউশন্স কোম্পানি

Timeline of Jio Investment Mania
  • ২২শে এপ্রিল সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট Facebook, Jio Platforms এ ৪৩,৫৭৪ কোটি রুপি বা ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ১০% শেয়ারের সমতুল্য। এটি ভারতের টেক সেক্টরে সবচেয়ে বড় Foreign Direct Investment (FDI)।
  • ২রা মে টেক সেক্টরে বিনিয়োগকারী ফার্ম Silver Lake Partner্‌ Jio Platforms এর ১.২% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৫,৬৫৬ কোটি রুপি বা ০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ৮ই মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম Vista Equity Partners, Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
  • ১৭ই মে General Atlantic, Jio Platforms এর ১.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৬,৫৯৮ কোটি রুপি বা ০.৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ২২ই মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম KKR & Co., Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
  • ৫ই জুন, আবুধাবীভিত্তিক সভরেইন ইনভেস্টর Mubadala Investment Company, Jio Platforms এ ৯,০৯৪ কোটি রুপি বা ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ১.৯% শেয়ারের সমতুল্য। একই দিনে Silver Lake Partner্‌s আরো ৪,৫৪৭ কোটি রুপি বিনিয়োগের মাধ্যমে ০.৯% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
  • ৭ই জুন Abu Dhabi Investment Authority (ADIA), Jio Platforms এর ১.২% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ৫,৬৮৪ কোটি রুপি বা ০.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ১৩ই জুন অল্টারনেটিভ অ্যাসেট কোম্পানি TPG, Jio Platforms এ ৪,৫৪৬ কোটি রুপি বা ০.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা প্ল্যাটফর্মটির ০.৯% শেয়ারের সমতুল্য। একই দিনে কনজিউমার-কোম্পানি ফোকাসড প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম L Catterton ১,৮৯৫ কোটি রুপি বিনিয়োগের মাধ্যমে ০.৪% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
  • ১৮ই জুন সৌদি আরবের একটি পাব্লিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, Jio Platforms এর ২.৩% শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে ১১,৩৬৭ কোটি রুপি বা ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।
  • ৩ই জুলাই বিশ্ববিখ্যাত সিপিউ মেকার Intel এর ইনভেস্টমেন্ট সাবসিডিয়ারি, Intel Capital, Jio Platforms এ ১,৮৯৫ কোটি বা ০.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির ০.৪% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়।
  • ১২ই জুলাই বিশ্ববিখ্যাত চিপমেকার Qualcomm এর ইনভেস্টমেন্ট সাবসিডিয়ারি, Qualcomm Ventures, Jio Platforms এ ৭৩০ কোটি বা ০.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির ০.২% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়।
  • সবশেষে ১৫ই জুলাই, রিলায়েন্সের এজিএমের দিনে, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি গুগল, Jio Platforms এর ৭.৭% শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়, যার মূল্য ৩৩,৭৩৭ কোটি রুপি বা ৪.৪ বিলিয়ন ডলার, যা এই ১৪টি ইনভেস্টমেন্ট ডিলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ঘোষণার একদিন আগে গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি Alphabet এর সিইও মিঃ সুন্দর পিচাই ভারতে আগামী ৫-৭ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। 
সর্বমোট ৮টি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম ৭.৯ ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিলো Jio Platforms এ, যা যথাক্রমে ফেসবুক ও গুগলের বিনিয়োগের ৪০% ও ৮০%  বেশি।

Source: NDTV

Products & Services from the Investments
  • Jio-Facebook: গত বছরের ডিসেম্বরে Jio তাদের অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম JioMart এর কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু করে। আর Facebook এর পক্ষ থেকে বিনিয়োগের ঘোষণা আসার দিন দুয়েক পরে অনলাইনে আত্নপ্রকাশ করে JioMart। Jio-তে Facebook এর ইনভেস্টমেন্ট ভারতের ই-কমার্স ব্যবসায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলো। FlipKart ভারতীয় ই-কমার্স সেক্টরের ৬০% শেয়ার দখলে রাখলেও Walmart এর মালিকানা থাকার কারণে রেগুলেটরি বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে দেশী কোম্পানি হওয়ার সুবাদে Jio সরকারী আনুগত্যের কারণে তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ পাবে। 
  • Jio-Google: ভারতের বিপুল পরিমাণ গরীব জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্প দামের স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে Jio তে বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেয় Google। এর আগে কোম্পানিটি "Google For India" নামের একটি Digitization Fund এর মাধ্যমে ভারতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। Jio তে বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৪.৫ বিলিয়ন ডলার সেই ফান্ডেরই একটা অংশ। Jio-এর প্রায় ৪০ কোটি টেলিকম সার্ভিস সাবস্ক্রাইবারদের কাছে এফোর্ডেবল স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে দ্রুত স্মার্টফোনের বাজার দখল করাই গুগলের লক্ষ্য।
  • Jio-Silver Lake: US-ভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানি Silver Lake টেকনোলজি সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য বিখ্যাত। সর্বশেষ আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির Asset Under Management (AUM) প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। Twitter, Alibaba, Ant Financial, Dell সহ আরো কিছু লিডিং টেক কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছে Silver Lake। এসব ইনভেস্টমেন্ট থেকে বছরে ২০৪ বিলিয়ন ডলারের মত আয় হয় Silver Lake এর। ২০০৯ সালে ebay এর কাছ থেকে ১.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে Skype-কে কিনে ২০১১ সালে Microsoft এর কাছে ৮.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করার মাধ্যমে প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল exit deal সম্পন্ন করার রেকর্ড নিজের কাছে রেখেছে Silver Lake। ২০১৩ সালে ভারতে প্রথম বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি। Jio Platforms-এ সর্বমোট ১০২০২.৫৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে Silver Lake, যা প্ল্যাটফর্মটির ২.০৮% শেয়ারের সমতুল্য।
  • Jio-KKR: ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম KKR এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি টেক কোম্পানিতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে আছে BMC Software, TikTok এর প্যারেন্ট কোম্পানি ByteDance, Gojek ইত্যাদি। Jio-এর সাথে deal এশিয়া মহাদেশে KKR এর সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট।
  • Jio-General Atlantic: অপর নিউইয়র্কভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম General Atlantic-এর ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওতে হেলথকেয়ার, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস এবং টেকনলজি সেক্টরের বিভিন্ন কোম্পানি আছে। Uber, Airbnb, Alibaba, ANT Financial, ByteDance, Box, Snapchat এবং Facebook এর মত কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছে ফার্মটি। Jio ছাড়াও ভারতে আগেও ইনভেস্ট করেছে General Atlantic। বেঙ্গালুরোভিত্তিক অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টিং স্টার্টআপ NoBroker, Education Tech বা Edtech কোম্পানি Unacademy ও Byju's, পেমেন্ট প্রসেসর কোম্পানি Billdesk এবং National Stock Exchange of India (NSE) রয়েছে General Atlantic এর পোর্টফোলিওতে।
  • Jio-Qualcomm: 5G infrastructure প্রতিষ্ঠা এবং সার্ভিস প্রদান সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে Qualcomm Ventures এর কাছে শেয়ার বিক্রি করেছে Jio। এতে করে Jio 5G Technology rollout করতে Qualcomm Inc. এর পূর্ণ সাপোর্ট পাবে।
  • Jio-Intel: 5G technology rollout এর ক্ষেত্রে Intel থেকেও সাপোর্ট পাবে Jio। এছাড়াও Jio এর  বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সার্ভিসে Artificial Intelligence (AI), Internet of Things (IoT) - এর প্রয়োগের ক্ষেত্রেও Intel কাজ করবে। ভবিষ্যতে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বিক্রির পরিকল্পনাও আছে Jioর; যার জন্য Intel এর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে কোম্পানিটি।
  • Jio-Vista: Vista এর ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম, প্রোডাক্ট ও সার্ভিসে AI, IoT, Blockchain, Augmented Reality (AR)/Virtual Reality (VR)-সহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের সুযোগ পাবে Jio।
Behind the Mania
কেন মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এতগুলো বড় বিনিয়োগ হল? Jio-ই বা কেন নিজেদের প্ল্যাটফর্মের প্রায় এক তৃতীয়াংশ শেয়ার বিক্রি করে দিলো? চলুন পিছনের কারণগুলি দেখা যাক - 

১) বেশ কিছু কারণে ইনভেস্টরদের বিশেষ করে প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টরদের White list-এ আগে থেকেই ছিল Jio; আর সেগুলো হল - ১৩০ কোটি জনসংখ্যার বাজারে Jio-র আধিপত্য, লোনমুক্ত পোর্টফোলিও এবং রেগুলেটরি দিক থেকে নিরাপদ অবস্থান। সেই সাথে গত বছর Jio Platforms এর অপারেশন শুরু করা ছিল Jio-র মাস্টারস্ট্রোকগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইন ও টেকনোলজি-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোতে দ্রুত কাস্টমার বাড়াতে সক্ষম হয়েছে Jio। এসব কারণে Jio বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

২) Jio এখন আর শুধুমাত্র একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর না, প্রায় সব ধরণের ডিজিটাল বিজনেসে প্রবেশ করা একটি পরিপূর্ণ টেক কোম্পানি। আর এইসব কারণে Jio Platforms ইনভেস্টরদের কাছ থেকে higher valuation পেয়েছে। প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানিগুলো প্ল্যাটফর্মটিকে তার ইক্যুইটির জন্য প্রায় ৪.৯ ট্রিলিয়ন রূপি ভ্যালুয়েশন দিচ্ছে, Facebook ও Google দিচ্ছে ৪.৪ ট্রিলিয়ন রূপি।

৩) টেলিকম ব্যবসাসহ আরো অন্যান্য ব্যবসাসমূহ খুব অল্প সময়ের মধ্যে শুরু করার দরুন রিলায়েন্সের লোনবুক দিনদিন বড় হয়েছে। ডিজিটাল বিজনেসের জন্য লোনবিহীন আলাদা Entity প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে বড় রকমের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং তা দিয়ে রিলায়েন্সের লোনবুক ছোট করাই ছিলো Jio Platforms বানানোর উদ্দেশ্য।


সাবসিডিয়ারি হওয়ার কারণে Reliance Jio-থেকে ১ লাখ কোটি রুপির লোন রিলায়েন্সের ঘাড়ে আসে, কিন্তু সেই সাথে সমপরিমাণ ক্যাশও আসে রিলায়েন্সের কাছে। এই ক্যাশের উৎস কি? এর আগে Jio Platforms, Reliance Jio এর ইস্যু করা Preferred Shares সাবস্ক্রাইব করে; আর তা থেকে প্রাপ্ত ক্যাশই প্যারেন্ট কোম্পানিতে ট্রান্সফার করে Jio। এখন প্রশ্ন হল এই শেয়ার সাবস্ক্রাইব করার জন্য টাকা কোত্থেকে পেল Jio Platforms। এই টাকা পেয়েছে প্যারেন্ট কোম্পানি রিলায়েন্সের কাছ থেকেই। কি, মাথা ঘুরছে?
গত বছরের শুরুর দিকে Jio Platforms-ও Reliance Jio-র মত একই পদ্ধতিতে Preferred Shares ইস্যু করে এবং সেগুলো সাবস্ক্রাইব করে রিলায়েন্স। ঘুরে ফিরে কি দাঁড়াচ্ছে? রিলায়েন্স তার নিজের ক্যাশ ব্যবহার করেছে Jio Platforms এ ফাইনান্সিংয়ের জন্য; সেই ক্যাশ Jio Platforms ব্যবহার করেছে টেলিকম সাবসিডিয়ারি Reliance Jio তে ফাইনান্সিংয়ের জন্য; এই অর্থ আল্টিমেটলি Jio, প্যারেন্ট কোম্পানি রিলায়েন্সকেই ফেরত দিয়েছে। এভাবে রিলায়েন্স তার টেলিকম সাবসিডিয়ারি কাছে থেকে লোনের সাথে নিজের ক্যাশও ফেরত পেয়েছে। গত ৩ মাসে যতগুলি Deal হয়েছে, প্রতিটি ইনভেস্টমেন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থের কিছু অংশ Jio Platforms নিজের কাছে রাখবে, বাকিটা দিয়ে রিলায়েন্সের লোন পরিশোধ করা হবে।


৪) আমেরিকা-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভারত-চীন এর মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষের সূত্র ধরে ইন্ডিয়ান কোম্পানিগুলোর মধ্যে Data Sovereignty নিয়ে কনসার্ন বেশ জোরদার হচ্ছে। টেলিকম ও ডিজিটাল পেমেন্ট-সহ আরো বিভিন্ন সেক্টরের জায়ান্টদের কাছে বিপুল সংখ্যক ডাটা রয়েছে। চীন আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন কোম্পানির কাছে যাতে ভারতীয় ডাটার অবাধ একসেস না থাকে, সেজন্য প্রোটেকশনিস্ট আইন করা নিয়েও ব্যাপক সোচ্চার সেক্টর জায়ান্টরা। আর এইসব কারণে Google, Facebook, Amazon, Microsoft এর মত US টেক জায়ান্টরা ভারতে তাদের কার্যক্রম চালাতে বিভিন্ন রেগুলেটরি বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে। Jio তে Facebook, Google এর ইনভেস্টমেন্টকে তাই ভারতে বিদেশী কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের ব্যাপারে রেগুলেটরি বিধিনিষেধের ব্যাপারে কিছুটা হলেও শৈথিল্য পাওয়া এবং ভারতীয় ডাটার একসেস পাওয়ার রাস্তা ভাবলেও ভুল হবেনা।

বিশ্বজনীন না হলেও অন্তত ভারতের টেকনোলজি-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর কিভাবে ব্যবসা করা উচিত তা শিখাচ্ছে রিলায়েন্স। পরবর্তীতে বিশ্বের টেক কোম্পানিগুলোও হয়ত রিলায়েন্সের দেখানো পথেই হাঁটবে।